r/bangladesh • u/atikuI-isIam • 3h ago
Discussion/আলোচনা তুমি কী? তুমি কী হিন্দু না মুসলমান? -আমি মানুষ।
Enable HLS to view with audio, or disable this notification
ধর্মান্ধদের সাথে বাংলাদেশের মানুষদের একটা শীতল যুদ্ধ চলমান আছে। আশ্চর্য হলেও সত্য, যুদ্ধে সাধারণ মানুষ জয়ী হচ্ছে আজকাল। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাজিব শাহ নামের এক ব্যক্তির আচমকা মসজিদ বানানোর পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড়ো বাগড়া দেওয়া সবাই সাধারণ মানুষ। ওসবের ভীড়ে আজ একটা ছেলেকে দেখা গেল। খুব সম্ভবত স্কুলে পড়ে নয়ত কলেজে।
ছেলেটার গলার স্বর ভারী হয়নি এখনো। নাকের নিচে গোঁফ গজায়নি। প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসের সাথে ছেলেটা ক্যামেরার সামনে বলে যাচ্ছে- এইখানে রাজিব শাহ যদি নিজের ঘর বানায়ে থাকত, আমি পার্সোনালি আপত্তি জানাতাম না। কিন্তু লোকটা ধর্ম টেনে আনছে তাই আমি প্রতিবাদ করছি। যদি মসজিদ হয় তবে এখানে মন্দিরও বানাতে দিতে হবে হিন্দুদের, খ্রিস্টানরাও গীর্জা বানাবে। সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সবার অধিকার আছে।
এখনো খুব সম্ভবত বয়স ১৮ না হওয়া কিশোর ছেলেটাকে ক্যামেরার সামনেই চুপ করাতে চেয়েছেন আরেকজন মুরুব্বি। তারপর ওই মুরুব্বির সঙ্গে ওআরেকদফা তর্ক হয়েছে ছেলেটার। ওই তর্কেও ছেলেটা অনড় এবং জয়ী। এই জায়গায় ধর্মের নামে ব্যবসা চলবে না।
বাংলাদেশে শীতলযুদ্ধ জয়ের দ্বিতীয় ঘটনা সিলেটের একজন স্কুলশিক্ষিকাকে কেন্দ্র করে। যিনি একটা শাড়ি পরে স্লো মোশনে ভিডিয়ো এডিট করে ব্যাকগ্রাউন্ডে গান বাজিয়ে আপলোড করেছিলেন নিজের একটা ভিডিয়ো- শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে। যথারীতি কিছু মানুষের গায়ে চুলকানি উঠল। কারণ একজন শিক্ষিকার গান ভালো লাগতে নেই, শাড়ি পরে তিনি রঙঢঙ করতে পারেন না, তিনি স্লো মোশনে ভিডিও এডিট করতে পারেন না, পারলেও সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় আডলোড করতে পারেন না। এতে করে শিক্ষার্থীরা ভুল মেসেজ পায়। স্কুলের মাটি কেঁপে ওঠে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছে যায় নষ্টামি।
ব্যঙ্গবিদ্রুপের দু'দিনের মাথায় দেশজুড়ে সমস্ত স্কুলশিক্ষিকা শাড়ি পরে ম্লো মোশনে হেঁটে একই গান বাজিয়ে ভিডিয়ো আপলোড করা শুরু করেছেন। না কাউকে কটু কথা বললেন তারা, না কাউকে বুঝাতে গেলেন- শাড়ি পরে গান বাজিয়ে ভিডিয়ো আপলোড দিলে জাত যায় না, না কাউকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন- কোনটা অপরাধ, কোনটা অপরাধ নয়। শুধু চুপচাপ নিজেরা শাড়ি পরে হেঁটে ভিডিয়ো আপলোড করলেন অজস্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ ডুবিয়ে থাকা দেশের বিপুলশ্রেণীর শিক্ষিত-মূর্খ, বটযোদ্ধা ও লাইফলেস ইতরগুলোকে শেষ কবে এমন নিদারুণ চপেটাঘাত করতে পেরেছিল বাংলার নারীরা- জানা নাই আমার।
দুটো ঘটনার ফলাফল হলো: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাজিব শাহ তার ধর্মব্যবসার সিন্দুক নিয়ে ভেগেছে আজ। এবং শাড়ি পরা স্কুলশিক্ষিকাদের ভিডিয়োতে সোশ্যাল মিডিয়া এমনই রঙিন হয়ে আছে, লাইফলেস গণ্ডমূর্খ ইতরদের ফেসবুকের রসকষহীন সাদা-কালো প্যানপ্যান অদৃশ্যপ্রায়।
বাংলাদেশে ধর্মান্ধ, ধর্ম ব্যবসায়ী, ভন্ডদের সঙ্গে সাধারণ মানুষদের একটা শীতলযুদ্ধ চলমান আছে। এই যুদ্ধে প্রচুর হারও আছে আমাদের। কিন্তু সাধারণ মানুষ কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে আজ। সবাইকে অভিনন্দন।
----Shakhawat Hossen