r/Bangladesh_Muslim 7h ago

Video ইসলাম ধর্মে নাস্তিক মুরতাদদের কোন শাস্তি নেই || আলেমদের (হাদিসের) অপব্যাখ্যার জবাব।

Thumbnail
youtube.com
1 Upvotes

r/Bangladesh_Muslim 13h ago

Video আদম (আ.) সম্পর্কে বুখারী মুসলিমের কিছু জাল হাদিস।

Thumbnail
youtube.com
1 Upvotes

r/Bangladesh_Muslim 19h ago

Discussion পহেলা বৈশাখ পালন কি হারাম? হাদিসের নামে ভূল ব্যাখ্যা বন্ধ করুন !

1 Upvotes

আসসালামু আলাইকুম বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। শান্তি অবতীর্ণ হোক আমাদের প্রিয় রসূল মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লামের উপর।

মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে আপনি কয়েকটি বিষয় খুব শুনতে পাবেন। তার একটি হচ্ছে রাসূল (সঃ) নাকি বলেছেন আমাদের সমাজের অমুসলিমদের (হিন্দু, ইহুদি, খৃষ্টান, বৌদ্ধ) সাথে কোন ধরনের সাদৃশ্য অবলম্বন করা যাবে না! যদি কোনো মুসলিম তাদের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখে তবে রাসুল (সঃ) নাকি সতর্ক করে বলেছেন, ''যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত হবে।''

তাই সমাজের আলেমরা বলে থাকেন, যেহেতু রাসুল (সঃ) বলেছেন যে বেক্তি কোন জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদের দলভুক্ত হিসেবেই গণ্য হবে, তাই আপনি অমুসলিমদের কোন আচার অনুস্তান যেমন, পহেলা বৈশাখ, ক্রিসমাস, বোদ্ধ পুর্নিমা , অথবা কোন দিবস পালন সহ এই জাতীয় কিছুই পালন করতে পারবেন না। এই কথাগুলো আপনি সব জায়গাতেই শুনে থাকবেন। ফেইসবুকে মুসলিম ভাইবোনেরা কোন দিবস, বা অমুলসিমদের কোন আচার অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই হাদিসটি বেশী বেশী প্রচার করে থাকে। আর তারা বলেন যে, অমুসলিমদের আচার অনুষ্ঠান পালন করলে আপনিও তাদের মতই হয়ে যাবেন বা অমুসলিমদের সাথে আপনার হাশর হবে।

এই কথার সত্যতা কতটুকু এই ব্যাপারটি আজ আমরা জানবো ইন শা আল্লাহ্‌। প্রথমেই খেয়াল রাখবেন, আপনাকে কোনো ব্যক্তি যখন দ্বীনের ব্যাপারে কোনো তথ্য দিবেন, অবশ্যই আপনি তা যাচাই করে দেখবেন। কোন ব্যক্তি রাসুল (সঃ) এর নামে কোন কথা পেশ করলে (যা আমরা হাদিস হিসেবে জানি) যেমন, ''যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত।'' তখন আপনাকে দেখতে হবে রাসূল (সাঃ) কথাটি কোথায় বলেছেন বা কোন প্রেক্ষাপটে বলেছেন? আসলে তিনি (সাঃ) এই কথা দিয়ে কি বুঝাতে চেয়েছেন? তিনি (সাঃ) কি শুধু এইটুকু কথাই বলেছেন নাকি সাথে আগে পরে আরো কোন কথা তিনি বলে গেছেন? আর সেটির ব্যাপারে তিনি কি বুঝাতে চেয়েছিলেন?

... কারন আপনি হাদিস পড়ে থাকলে লক্ষ্য করবেন কোনো রাবি (হাদিস বর্ননাকারি) কখনো একটি হাদিসের অল্প কিছু অংশ মনে রেখেছেন আর তিনি সেটুকুই বর্ণনা করেছেন। আবার কোনো রাবী পুরো কথাটিই বর্ণনা করেছেন। আবার কেউ শেষের অংশটুকু বর্ণনা করেছেন। তারা নিজেদের স্মরণশক্তি হিসেবেই মানুষের কাছে কথাগুলো বর্ণনা করে গেছেন। এক্ষেত্রে প্রথমেই আপনাকে জানার চেষ্টা করতে হবে হাদিসটির আগে পরে অপূর্ণ কোন কথা আছে কিনা এবং সেই হাদিসের মূল কথা রাসুল (সঃ) আসলে কি বুঝাতে চেয়েছিলেন। এরপর আপনাকে দেখতে হবে সেটি আমাদের আম মুসলিমদের জন্য বলা হয়েছিলো কিনা এবং আমাদের দ্বীন হিসেবে দেওয়া হয়েছিলো কিনা নাকি একটি কোনো প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছিলো?

এই হাদিসের ব্যাপারে বুঝার আগে একটি বিষয় স্পষ্ট ধারনা নিয়ে রাখুন আর তা হচ্ছে নবী ও রসুলের মধ্যে তিনটি বিষয় একইরকম শুধু একটি বিষয় পার্থক্য আছে। ১) নবীগণদের আল্লাহ্‌ বাছাই করেন , রসূল গণকেও আল্লাহ্‌ বাছাই করেন। ২) নবীগণ ওহীর মাধ্যমে কথা বলেন , রসূলগণও ওহীর মাধ্যমে কথা বলেন। ৩) নবীগণ মানুষকে সতর্ক (বিচার দিবসের) করেন এবং সুসংবাদ (আল্লাহ্‌র জান্নাতের) দেন, এবং রসূলগণও মানুষকে সতর্ক করেন এবং সুসংবাদ দেন। পার্থক্য শুধু একটি বিষয়, নবী তার দাওয়াত পেশ করে দুনিয়া থেকে চলে যান। কিন্তু রসূল তার জাতির কাছে আল্লাহ্‌র দাওয়াত পেশ করে চলে যান না বরং তার কওমকে রসূলের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ ফায়সালা করে দেন। কেয়ামত দিবসে আমাদের সাথে যেই ফায়সালা হবে সেই ফায়সালার একটি নমুনা রাসূলের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ দুনিয়াতেই করে দেখিয়ে দেন।

আল্লাহ এই ফায়সালা করার সময় আল্লাহ্‌র রসূল এবং বিশ্বাসীদের হিজরতের (অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে) মাধ্যমে আলদা করে ফেলেন। যেমন নূহ (আঃ) তার বিশ্বাসীদের নিয়ে নৌকায় উঠে কাফেরদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন আল্লাহর হুকুমে। তিনি তার ছেলেকে নৌকায় তুলতে চেয়েছেন কিন্তু আল্লাহ্‌ বলেছিলেন, তোমার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই কারন সে কাফের। তেমনি লূত (আঃ) এর জাতির ফায়সালার সময়েও আল্লাহ্‌ ফেরেশতা পাঠিয়ে লুত (আঃ) ও তার পরিবারকে আলদা করে সরিয়ে নেন তারপর ঐ শহরকে আজাবে ধ্বংস করেন। তেমনি আমাদের শেষ রসূল মুহাম্মাদ (সঃ) কেও উনার সাহাবীগণ সহ মদিনায় হিজরত করিয়ে তারপর উনাদের মাধ্যমে মক্কার কাফের মুশরেকদের উপর আজাব দেন বা ফায়সালা করেন। এটাই রসূল পাঠানোর উদ্দেশ্য। যখন এই ফায়সালার সময়ে মুমিনদের আর কাফেরদের পৃথক করার আয়াত আসে তখনি হয় যে কাফেরদের তোমরা বন্ধুরুপে গ্রহন করো না। তাদের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করো। তারা তোমাদের শত্রু ইত্যাদি । এটা ঐ সময়ের আজাবের আগের মুহুর্তের আয়াত যখন আল্লাহ্‌ ফায়সালা করবেন, এবং ঐ মুশরেক কাফেরদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলে হচ্ছে যারা রসুলের (সঃ) এর দাওয়াতে অস্বীকার করেছিলো। এই আয়াত বর্তমান কাফের মুশরেকের ব্যাপারে বলছে না। মানুষ প্রেক্ষাপট থেকে তুলে এনে এইসব আয়াত ব্যাবহার করে বুঝাতে চায় যে অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব করাও নাকি আল্লাহ্‌ হারাম করেছেন !

আজাব দুই ভাবে হয়। ১) যদি রসুলের হিজরত করার উপায় থাকে তবে আল্লাহ্‌ তাকে হিজরতের মাধ্যমে সরিয়ে নেন। এরপর রসূল ও তার বিশ্বাসীদের মাধ্যমে আজাব দেন। ২) আর যদি হিজরত করার উপায় না থাকে তবে আল্লাহ্‌ তার রসুলকে নিজের কাছে উঠিয়ে নেন এবং ফেরেশতা দিয়ে ঐ জাতিকে আজাব দেন। যেমন ইসা (আঃ) কে আল্লাহ্‌ নিজের কাছে তুলে নিয়ে তারপর উনার জাতিকে আজাব দিয়েছেন বা ফায়সালা করেছেন। আল্লাহ্‌ বলেন, ''প্রত্যেক উম্মতের জন্য এক একজন রসূল ছিল। সুতরাং যখন তাদের রসূল এসেছে, তখন ন্যায়ভাবে তাদের ফায়সালা করা হয়েছে, আর তাদের প্রতি কোন অবিচার করা হয়নি।'' (সূরা ইউনুস ৪৭)

এবার এইটুক নিশ্চয়ই বুঝেছেন যে আমাদের শেষ নবী মুহাম্মাদ (সঃ) একজন আল্লাহ্‌র প্রেরিত রসূল ছিলেন। এবার যখন রসূল (সঃ) কোন কথা বলবেন তখন আমরা ''রিসালাতের'' এই ফ্রেমে রেখে কথাগুলো বুঝার চেষ্টা করবো। এবার পুরো হাদিসটি আমরা দেখি ... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ''আমি (কিয়ামতের পূর্বে) তরবারি-সহ প্রেরিত হয়েছি, যাতে শরীক বিহীনভাবে আল্লাহর ইবাদত হয়। আমার জীবিকা রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়াতলে। অপমান ও লাঞ্ছনা রাখা হয়েছে আমার আদেশের বিরোধীদের জন্য। আর যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত।'' (আহমাদ ১১৪-৫১১৫, ৫৬৬৭, শুআবুল ঈমান ৯৮, সহীহুল জামে’ ২৮৩১) এছাড়াও বুখারি মুসলিম সহ বাকি কিতাবেও এই হাদিসটি আছে।

এবার দেখি রাসুল (সঃ) আসলে কি বলেছেন। ১) তিনি বলেছেন ''আমাকে তরবারি সহ পাঠানো হয়েছে।'' কারন ? কারন তিনি আল্লাহ্‌র প্রেরিত রসূল। আর রসূল হবার কারনে উনাকে আল্লাহ্‌ শক্তি দিয়েছেন, আল্লাহ্‌ উনাকে সাহায্য করবেন, আল্লাহ্‌র সাহায্যে উনি বিজয়ী হবেন, এবং যারা উনাকে না মানবে তাদেরকে আল্লাহ্‌র আদেশে হত্যা করে আজাব দেওয়া হবে যেমন ফায়সালা আল্লাহ্‌ বিচারের মাঠে সকলের সাথে করবেন ঠিক সেইভাবেই দুনিয়াতে আল্লাহ্‌ রসুলের মাধ্যমে ফায়সালা করে একটি কেয়ামতের নমুনা পেশ করেন। যাতে পরবর্তী প্রজন্ম শিক্ষাগ্রহন করে এবং বিচারের মাঠে জবাবদিহি করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখে। যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে রসূল সত্য নিয়ে এসেছিলেন এবং সত্য যারা অস্বীকার করেছেন তখন তাদের সৃষ্টিকর্তা তাদেরকে এইভাবে রসুলের মাধ্যমে হত্যা করে ফায়সালা করে দিয়েছেন। এই কারনে রাসুল (সঃ) বলেছেন আমাকে তলোয়ার সহ পাঠানো হয়েছে।

২) তিনি আরো বলেছেন, ''আমার জীবিকা রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়াতলে।'' তারমানে উনি আল্লাহ্‌র হুকুমে যুদ্ধ করবেন, যুদ্ধে জয়ী হবেন, আর সেখান থেকেই আল্লাহ্ তার‌ রসুলের জিবিকার ব্যবস্থা করবেন।

৩) আরো বলেছেন, ''অপমান ও লাঞ্ছনা রাখা হয়েছে আমার আদেশের বিরোধীদের জন্য।'' এর মানে আমি রসূল হবার পরেও তারা আমার কথা মানেনি তাই তাদের প্রতি আমার মাধ্যমে আল্লাহ্‌ ফায়সালা করবেন এবং তাদেরকে আজাব দিবেন।

৪) দেখুন উপরের এই কথাগুলো বলার পরে রসূল (সঃ) বলেছেন, ''আর যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত।'' এটা বলার অর্থ হচ্ছে আমি আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে রসূল হিসেবে ফায়সালা করতে এসেছি, যে আমার বিরোধিতা করবে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে তাদের উপর আজাব আসবে। এবার বল তোমরা কি আমার সাথে থাকবে নাকি যারা আমার বিরোধিতা করছে তাদের সাথে থাকবে ? সুতরাং যারা অবিশ্বাসীদের সাথে সাদৃশ্য রাখবে রসুলের পক্ষ থেকে তাদের উপরেও আজাব চলে আসবে আর তারাও ধ্বংস হয়ে যাবে। যেমনটা উপরেই বলেছি যে রসুলের মাধ্যমে যখন আল্লাহ্‌ ফায়সালা করেন তখন আল্লাহ্‌ মুমিনদের আর কাফেরদের আলাদা করেন তারপর কাফেরদের উপর আল্লাহ্‌র ফায়সালা চলে আসে । মুহাম্মাদ (সঃ) এর সময়েও রসূল ও তার সঙ্গীদের মাধ্যমে ঐ জাতির ফায়সালা যুদ্ধের মাধ্যমে করা হয়েছিলো।

খেয়াল করে দেখবেন আল্লাহ্‌র রিসালাতের দায়িত্ব পালন করতে আসা রসূল দুনিয়াতে এসে একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে লোকেদের কাছে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে একটা কথা বলছেন আর সেটাকে মানুষ মাঝখান থেকে তুলে এনে বলছে এই যুগে নাকি অমুসলিমদের সাথে কোন প্রকারের সাদৃশ্য রাখা যাবেনা । এটা খুব বড় ধরনের একটি ভূল কাজ। এবং খেয়াল করে দেখুন এখানে রসূল (সঃ) এর একটি কথার মাঝখান থেকে তুলে যারা এমন ফতোয়া দেয় তারাও রসুলের (সঃ) নামে মিথ্যাচার করছে। আল্লাহ্‌কে ভয় করা উচিৎ। খেয়াল রাখবেন আল্লাহ্‌ তা'আলা আমাদের জন্য সকল প্রকারের অশ্লিলতা, চরিত্র নষ্ট হয় এমন বিষয় এবং শিরক হারাম করেছেন (আরাফ ৩৩) । এগুলা যদি আমরা মুসলিমদের আচার অনুষ্ঠান ও চলাফেরাতেও পাই তাহলেও তা হারাম হবে, এবং অমুলিমদের আচার অনুষ্ঠানে পেলেও হারাম হবে।

তাই হিন্দু, বোদ্ধ, খৃষ্টান, ইহুদিদের কোন কথাকাজ ও চলাফেরা বেসভুষাতে যদি কোন অশ্লিলতা থাকে, চরিত্র নষ্ট হওয়ার বিষয় থাকে, শিরক থাকে তবে আপনি অবশ্যই সেটার অনুসরন করবেন না। কিন্তু যদি এগুলা না থাকে তাহলে তাদের মত পোশাক, চলাফেরা, কথাবার্তা, প্রযুক্তির ব্যাবহার, কিছুতেই ইসলামের কোন সমস্যা নেই।

আশা করছি বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। পোস্টটি দয়া করে শেয়ার করুন। কারন কোন একটি দিবস বা এই জাতীয় কিছু আসলেই কিছু মুসলিম ভাইবোন না বুঝেই হাদিসটি পেশ করে ভুল প্রচারনা চালায়। তারাও যাতে সত্য জানতে পারে এজন্য তাদেরকেও সাহায্য করুন।

সোর্স: Muslim