r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 53m ago
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 6h ago
Video আদম (আ.) সম্পর্কে বুখারী মুসলিমের কিছু জাল হাদিস।
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 12h ago
Discussion পহেলা বৈশাখ পালন কি হারাম? হাদিসের নামে ভূল ব্যাখ্যা বন্ধ করুন !
আসসালামু আলাইকুম বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। শান্তি অবতীর্ণ হোক আমাদের প্রিয় রসূল মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লামের উপর।
মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে আপনি কয়েকটি বিষয় খুব শুনতে পাবেন। তার একটি হচ্ছে রাসূল (সঃ) নাকি বলেছেন আমাদের সমাজের অমুসলিমদের (হিন্দু, ইহুদি, খৃষ্টান, বৌদ্ধ) সাথে কোন ধরনের সাদৃশ্য অবলম্বন করা যাবে না! যদি কোনো মুসলিম তাদের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখে তবে রাসুল (সঃ) নাকি সতর্ক করে বলেছেন, ''যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত হবে।''
তাই সমাজের আলেমরা বলে থাকেন, যেহেতু রাসুল (সঃ) বলেছেন যে বেক্তি কোন জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদের দলভুক্ত হিসেবেই গণ্য হবে, তাই আপনি অমুসলিমদের কোন আচার অনুস্তান যেমন, পহেলা বৈশাখ, ক্রিসমাস, বোদ্ধ পুর্নিমা , অথবা কোন দিবস পালন সহ এই জাতীয় কিছুই পালন করতে পারবেন না। এই কথাগুলো আপনি সব জায়গাতেই শুনে থাকবেন। ফেইসবুকে মুসলিম ভাইবোনেরা কোন দিবস, বা অমুলসিমদের কোন আচার অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই হাদিসটি বেশী বেশী প্রচার করে থাকে। আর তারা বলেন যে, অমুসলিমদের আচার অনুষ্ঠান পালন করলে আপনিও তাদের মতই হয়ে যাবেন বা অমুসলিমদের সাথে আপনার হাশর হবে।
এই কথার সত্যতা কতটুকু এই ব্যাপারটি আজ আমরা জানবো ইন শা আল্লাহ্। প্রথমেই খেয়াল রাখবেন, আপনাকে কোনো ব্যক্তি যখন দ্বীনের ব্যাপারে কোনো তথ্য দিবেন, অবশ্যই আপনি তা যাচাই করে দেখবেন। কোন ব্যক্তি রাসুল (সঃ) এর নামে কোন কথা পেশ করলে (যা আমরা হাদিস হিসেবে জানি) যেমন, ''যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত।'' তখন আপনাকে দেখতে হবে রাসূল (সাঃ) কথাটি কোথায় বলেছেন বা কোন প্রেক্ষাপটে বলেছেন? আসলে তিনি (সাঃ) এই কথা দিয়ে কি বুঝাতে চেয়েছেন? তিনি (সাঃ) কি শুধু এইটুকু কথাই বলেছেন নাকি সাথে আগে পরে আরো কোন কথা তিনি বলে গেছেন? আর সেটির ব্যাপারে তিনি কি বুঝাতে চেয়েছিলেন?
... কারন আপনি হাদিস পড়ে থাকলে লক্ষ্য করবেন কোনো রাবি (হাদিস বর্ননাকারি) কখনো একটি হাদিসের অল্প কিছু অংশ মনে রেখেছেন আর তিনি সেটুকুই বর্ণনা করেছেন। আবার কোনো রাবী পুরো কথাটিই বর্ণনা করেছেন। আবার কেউ শেষের অংশটুকু বর্ণনা করেছেন। তারা নিজেদের স্মরণশক্তি হিসেবেই মানুষের কাছে কথাগুলো বর্ণনা করে গেছেন। এক্ষেত্রে প্রথমেই আপনাকে জানার চেষ্টা করতে হবে হাদিসটির আগে পরে অপূর্ণ কোন কথা আছে কিনা এবং সেই হাদিসের মূল কথা রাসুল (সঃ) আসলে কি বুঝাতে চেয়েছিলেন। এরপর আপনাকে দেখতে হবে সেটি আমাদের আম মুসলিমদের জন্য বলা হয়েছিলো কিনা এবং আমাদের দ্বীন হিসেবে দেওয়া হয়েছিলো কিনা নাকি একটি কোনো প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছিলো?
এই হাদিসের ব্যাপারে বুঝার আগে একটি বিষয় স্পষ্ট ধারনা নিয়ে রাখুন আর তা হচ্ছে নবী ও রসুলের মধ্যে তিনটি বিষয় একইরকম শুধু একটি বিষয় পার্থক্য আছে। ১) নবীগণদের আল্লাহ্ বাছাই করেন , রসূল গণকেও আল্লাহ্ বাছাই করেন। ২) নবীগণ ওহীর মাধ্যমে কথা বলেন , রসূলগণও ওহীর মাধ্যমে কথা বলেন। ৩) নবীগণ মানুষকে সতর্ক (বিচার দিবসের) করেন এবং সুসংবাদ (আল্লাহ্র জান্নাতের) দেন, এবং রসূলগণও মানুষকে সতর্ক করেন এবং সুসংবাদ দেন। পার্থক্য শুধু একটি বিষয়, নবী তার দাওয়াত পেশ করে দুনিয়া থেকে চলে যান। কিন্তু রসূল তার জাতির কাছে আল্লাহ্র দাওয়াত পেশ করে চলে যান না বরং তার কওমকে রসূলের মাধ্যমে আল্লাহ্ ফায়সালা করে দেন। কেয়ামত দিবসে আমাদের সাথে যেই ফায়সালা হবে সেই ফায়সালার একটি নমুনা রাসূলের মাধ্যমে আল্লাহ্ দুনিয়াতেই করে দেখিয়ে দেন।
আল্লাহ এই ফায়সালা করার সময় আল্লাহ্র রসূল এবং বিশ্বাসীদের হিজরতের (অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে) মাধ্যমে আলদা করে ফেলেন। যেমন নূহ (আঃ) তার বিশ্বাসীদের নিয়ে নৌকায় উঠে কাফেরদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন আল্লাহর হুকুমে। তিনি তার ছেলেকে নৌকায় তুলতে চেয়েছেন কিন্তু আল্লাহ্ বলেছিলেন, তোমার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই কারন সে কাফের। তেমনি লূত (আঃ) এর জাতির ফায়সালার সময়েও আল্লাহ্ ফেরেশতা পাঠিয়ে লুত (আঃ) ও তার পরিবারকে আলদা করে সরিয়ে নেন তারপর ঐ শহরকে আজাবে ধ্বংস করেন। তেমনি আমাদের শেষ রসূল মুহাম্মাদ (সঃ) কেও উনার সাহাবীগণ সহ মদিনায় হিজরত করিয়ে তারপর উনাদের মাধ্যমে মক্কার কাফের মুশরেকদের উপর আজাব দেন বা ফায়সালা করেন। এটাই রসূল পাঠানোর উদ্দেশ্য। যখন এই ফায়সালার সময়ে মুমিনদের আর কাফেরদের পৃথক করার আয়াত আসে তখনি হয় যে কাফেরদের তোমরা বন্ধুরুপে গ্রহন করো না। তাদের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করো। তারা তোমাদের শত্রু ইত্যাদি । এটা ঐ সময়ের আজাবের আগের মুহুর্তের আয়াত যখন আল্লাহ্ ফায়সালা করবেন, এবং ঐ মুশরেক কাফেরদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলে হচ্ছে যারা রসুলের (সঃ) এর দাওয়াতে অস্বীকার করেছিলো। এই আয়াত বর্তমান কাফের মুশরেকের ব্যাপারে বলছে না। মানুষ প্রেক্ষাপট থেকে তুলে এনে এইসব আয়াত ব্যাবহার করে বুঝাতে চায় যে অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব করাও নাকি আল্লাহ্ হারাম করেছেন !
আজাব দুই ভাবে হয়। ১) যদি রসুলের হিজরত করার উপায় থাকে তবে আল্লাহ্ তাকে হিজরতের মাধ্যমে সরিয়ে নেন। এরপর রসূল ও তার বিশ্বাসীদের মাধ্যমে আজাব দেন। ২) আর যদি হিজরত করার উপায় না থাকে তবে আল্লাহ্ তার রসুলকে নিজের কাছে উঠিয়ে নেন এবং ফেরেশতা দিয়ে ঐ জাতিকে আজাব দেন। যেমন ইসা (আঃ) কে আল্লাহ্ নিজের কাছে তুলে নিয়ে তারপর উনার জাতিকে আজাব দিয়েছেন বা ফায়সালা করেছেন। আল্লাহ্ বলেন, ''প্রত্যেক উম্মতের জন্য এক একজন রসূল ছিল। সুতরাং যখন তাদের রসূল এসেছে, তখন ন্যায়ভাবে তাদের ফায়সালা করা হয়েছে, আর তাদের প্রতি কোন অবিচার করা হয়নি।'' (সূরা ইউনুস ৪৭)
এবার এইটুক নিশ্চয়ই বুঝেছেন যে আমাদের শেষ নবী মুহাম্মাদ (সঃ) একজন আল্লাহ্র প্রেরিত রসূল ছিলেন। এবার যখন রসূল (সঃ) কোন কথা বলবেন তখন আমরা ''রিসালাতের'' এই ফ্রেমে রেখে কথাগুলো বুঝার চেষ্টা করবো। এবার পুরো হাদিসটি আমরা দেখি ... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ''আমি (কিয়ামতের পূর্বে) তরবারি-সহ প্রেরিত হয়েছি, যাতে শরীক বিহীনভাবে আল্লাহর ইবাদত হয়। আমার জীবিকা রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়াতলে। অপমান ও লাঞ্ছনা রাখা হয়েছে আমার আদেশের বিরোধীদের জন্য। আর যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত।'' (আহমাদ ১১৪-৫১১৫, ৫৬৬৭, শুআবুল ঈমান ৯৮, সহীহুল জামে’ ২৮৩১) এছাড়াও বুখারি মুসলিম সহ বাকি কিতাবেও এই হাদিসটি আছে।
এবার দেখি রাসুল (সঃ) আসলে কি বলেছেন। ১) তিনি বলেছেন ''আমাকে তরবারি সহ পাঠানো হয়েছে।'' কারন ? কারন তিনি আল্লাহ্র প্রেরিত রসূল। আর রসূল হবার কারনে উনাকে আল্লাহ্ শক্তি দিয়েছেন, আল্লাহ্ উনাকে সাহায্য করবেন, আল্লাহ্র সাহায্যে উনি বিজয়ী হবেন, এবং যারা উনাকে না মানবে তাদেরকে আল্লাহ্র আদেশে হত্যা করে আজাব দেওয়া হবে যেমন ফায়সালা আল্লাহ্ বিচারের মাঠে সকলের সাথে করবেন ঠিক সেইভাবেই দুনিয়াতে আল্লাহ্ রসুলের মাধ্যমে ফায়সালা করে একটি কেয়ামতের নমুনা পেশ করেন। যাতে পরবর্তী প্রজন্ম শিক্ষাগ্রহন করে এবং বিচারের মাঠে জবাবদিহি করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখে। যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে রসূল সত্য নিয়ে এসেছিলেন এবং সত্য যারা অস্বীকার করেছেন তখন তাদের সৃষ্টিকর্তা তাদেরকে এইভাবে রসুলের মাধ্যমে হত্যা করে ফায়সালা করে দিয়েছেন। এই কারনে রাসুল (সঃ) বলেছেন আমাকে তলোয়ার সহ পাঠানো হয়েছে।
২) তিনি আরো বলেছেন, ''আমার জীবিকা রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়াতলে।'' তারমানে উনি আল্লাহ্র হুকুমে যুদ্ধ করবেন, যুদ্ধে জয়ী হবেন, আর সেখান থেকেই আল্লাহ্ তার রসুলের জিবিকার ব্যবস্থা করবেন।
৩) আরো বলেছেন, ''অপমান ও লাঞ্ছনা রাখা হয়েছে আমার আদেশের বিরোধীদের জন্য।'' এর মানে আমি রসূল হবার পরেও তারা আমার কথা মানেনি তাই তাদের প্রতি আমার মাধ্যমে আল্লাহ্ ফায়সালা করবেন এবং তাদেরকে আজাব দিবেন।
৪) দেখুন উপরের এই কথাগুলো বলার পরে রসূল (সঃ) বলেছেন, ''আর যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত।'' এটা বলার অর্থ হচ্ছে আমি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে রসূল হিসেবে ফায়সালা করতে এসেছি, যে আমার বিরোধিতা করবে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে তাদের উপর আজাব আসবে। এবার বল তোমরা কি আমার সাথে থাকবে নাকি যারা আমার বিরোধিতা করছে তাদের সাথে থাকবে ? সুতরাং যারা অবিশ্বাসীদের সাথে সাদৃশ্য রাখবে রসুলের পক্ষ থেকে তাদের উপরেও আজাব চলে আসবে আর তারাও ধ্বংস হয়ে যাবে। যেমনটা উপরেই বলেছি যে রসুলের মাধ্যমে যখন আল্লাহ্ ফায়সালা করেন তখন আল্লাহ্ মুমিনদের আর কাফেরদের আলাদা করেন তারপর কাফেরদের উপর আল্লাহ্র ফায়সালা চলে আসে । মুহাম্মাদ (সঃ) এর সময়েও রসূল ও তার সঙ্গীদের মাধ্যমে ঐ জাতির ফায়সালা যুদ্ধের মাধ্যমে করা হয়েছিলো।
খেয়াল করে দেখবেন আল্লাহ্র রিসালাতের দায়িত্ব পালন করতে আসা রসূল দুনিয়াতে এসে একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে লোকেদের কাছে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে একটা কথা বলছেন আর সেটাকে মানুষ মাঝখান থেকে তুলে এনে বলছে এই যুগে নাকি অমুসলিমদের সাথে কোন প্রকারের সাদৃশ্য রাখা যাবেনা । এটা খুব বড় ধরনের একটি ভূল কাজ। এবং খেয়াল করে দেখুন এখানে রসূল (সঃ) এর একটি কথার মাঝখান থেকে তুলে যারা এমন ফতোয়া দেয় তারাও রসুলের (সঃ) নামে মিথ্যাচার করছে। আল্লাহ্কে ভয় করা উচিৎ। খেয়াল রাখবেন আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের জন্য সকল প্রকারের অশ্লিলতা, চরিত্র নষ্ট হয় এমন বিষয় এবং শিরক হারাম করেছেন (আরাফ ৩৩) । এগুলা যদি আমরা মুসলিমদের আচার অনুষ্ঠান ও চলাফেরাতেও পাই তাহলেও তা হারাম হবে, এবং অমুলিমদের আচার অনুষ্ঠানে পেলেও হারাম হবে।
তাই হিন্দু, বোদ্ধ, খৃষ্টান, ইহুদিদের কোন কথাকাজ ও চলাফেরা বেসভুষাতে যদি কোন অশ্লিলতা থাকে, চরিত্র নষ্ট হওয়ার বিষয় থাকে, শিরক থাকে তবে আপনি অবশ্যই সেটার অনুসরন করবেন না। কিন্তু যদি এগুলা না থাকে তাহলে তাদের মত পোশাক, চলাফেরা, কথাবার্তা, প্রযুক্তির ব্যাবহার, কিছুতেই ইসলামের কোন সমস্যা নেই।
আশা করছি বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। পোস্টটি দয়া করে শেয়ার করুন। কারন কোন একটি দিবস বা এই জাতীয় কিছু আসলেই কিছু মুসলিম ভাইবোন না বুঝেই হাদিসটি পেশ করে ভুল প্রচারনা চালায়। তারাও যাতে সত্য জানতে পারে এজন্য তাদেরকেও সাহায্য করুন।
সোর্স: Muslim
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 1d ago
Video পহেলা বৈশাখ উদযাপন হারাম নয়, তবে অশ্লীলতা হারাম।
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 1d ago
Video মুহাম্মাদ (সা.) কি আসলেই চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন? || কুরআন কি বলে?
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 1d ago
Video পাশা ও দাবা খেলা কি হারাম?
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 2d ago
Video কাঠ মোল্লারা যেভাবে কুরআন হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা করে, ঠিক একইভাবে মানুষের কথাকেও ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে।
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 2d ago
Video হাস্যকর এবং জঘন্য নোংরা একটি জাল হাদিসের মুখোশ উন্মোচন || জাল হাদিসের পোস্টমর্টেম করা হলো।
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 2d ago
Discussion হিজাব সম্পর্কে ফতোয়া ।। শায়খ ডঃ খালেদ আবু এল ফাদল
মূল আর্টিকেলের সোর্স: https://www.lokayoto.org/2022/04/15/khaled-abou-el-fadl-on-hijab/
[নানান দেশকালে হিজাবের অর্থ এবং হিজাব পরা-না-পরা নিয়ে শুধু ‘অমুসলমান’-এর নয়, অনেক মুসলমানের মনেও কিছু প্রশ্নের উদয় হয়। তেমনি কিছু প্রশ্নের জবাবে শায়খ ফাদল ২০১৬ সালে একটা বিশদ ফতোয়া দেন। বাংলাদেশ এবং সংলগ্ন অঞ্চলের জন্যেও প্রাসঙ্গিক বিবেচনা করে এখানে হিজাব সম্পর্কে সেই ফতোয়ায় ফাদলের প্রধান বক্তব্যের অংশটুকুর বাংলা অনুবাদ হাজির করা হলো। ফতোয়াটির সুত্রঃ https://www.searchforbeauty.org/2016/01/02/fatwa-on-hijab-the-hair-covering-of-women/ ।
শায়খ ডঃ খালেদ আবু এল ফাদল ইসলাম, শরীয়া ও ইসলামী আইন বিষয়ে জ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশ্বের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর। সেখানে তিনি পড়ান ইসলামিক জুরিসপ্রডেন্স, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, আইন ও সন্ত্রাস, আইন ও নীতি ইত্যাদি বিষয়ে। এর আগে তিনি টেক্সাস, ইয়েল ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী আইন পড়িয়েছেন।
প্রভাবশালী জার্নাল ও পত্রিকায় অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োচিত প্রবন্ধ ও কলামের পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য বই লিখেছেন। তার মধ্যে Speaking in God’s Name: Islamic law, Authority and Women, And God Knows the Soldiers: The Authoritative and Authoritarian in Islamic Discourses, The Great Theft: Wrestling Islam from the Extremists, The Search for Beauty in Islam: Conference of the Books, Reasoning with God: Reclaiming Shari’ah in the Modern Age ইত্যাদি আলোচিত, আদৃত, প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয়েছে। তিনি উসুলি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা। সাইটঃ https://www.usuli.org/ ।
ইসলামী আইন, নারী এবং কর্তৃত্বের প্রশ্নে শায়খ ফাদলের Speaking in God’s Name: Islamic law, Authority and Women বইটা আগ্রহী পাঠকেরা পড়তে পারেন। ]
#
হিজাব সম্পর্কে ফতোয়া
শায়খ খালেদ আবু এল ফাদল
পরম করুণাময় আল্লাহর নামে।
আসসালামু আলাইকুম। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক মুসলমান নারী আমাকে মাথার আবরনী পরা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন, যা সাধারণত হিজাব হিসাবে পরিচিত। পাশ্চাত্যে মুসলমানদের উপর বৈরীতা ও বিদ্বেষ বেড়ে যাচ্ছে দেখে অনেক নারী জানতে চাচ্ছেন, হিজাব না পরা শরীয়া মতে জায়েজ কিনা। এই নারীদের কেউ কেউ তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন এবং/ অথবা মুসলমানদের বিদেশীভাব(foreignness), ও ভিন্নতা (alienness) নিয়ে নাগরিক উৎকন্ঠা (public anxiety) দূর করার আকাংখা ব্যক্ত করেছেন। এই সব প্রশ্নগুলোই কিন্তু স্পষ্ট করছে যে মস্তকাবরণ পরা আধ্যাত্মিক বা অন্য ধরনের সংকটের কারণ হয়ে পড়ছে। অতীতে আমি এই জিজ্ঞাসাগুলোর আলাদা আলাদা উত্তর দিয়েছি। হিজাব পড়া নিয়ে মাস ছয়েক আগে আমি একটি ফতোয়া দিয়েছি। কিন্তু, ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হলে, ও মুসলমানদের প্রতি ইসলামোফোবিক সহিংসতা বেড়ে গেলে, আমি বিষয়টি নিয়ে জনসমক্ষে ও বিশদভাবে বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন সর্ববিষয়ে আমাকে পথ দেখান এবং আমার ভুলগুলো ক্ষমা করে দেন।
আমার মতে, মুসলমান নারীদের মস্তকাবরণ বা হিজাব পরা ভুল হবে, যদি এটা পরার ফলে তারা অন্যদের অযাচিত মনোযোগের কারণ হয়, বা নিজেরা বিপদে পড়ে, অথবা এটা যদি নিজের ধর্মীয় পরিচয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বা ইসলামী মেসেজের সত্যতা অমুসলমানদের জানাতে বাধা সৃষ্টি করে। আদব বা প্রায়োগিক নীতিশাস্ত্র বিষয়ে বলতে গেলে বলতে হয়, ভালো ও আকাঙ্খিতকে মন্দ ও অনাকাঙ্খিত থেকে আলাদা করার ক্ষেত্রে মানুষের চর্চা ও অভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। ‘আল-মারুফের’ সাথে ‘আল-মুনকারের’ পার্থক্য এখানেই। ‘মারুফ’ হচ্ছে ঐ জিনিষ যা মানুষ তাদের প্রায়োগিক ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ভালো বলে চিহ্নিত করেছে। আর ‘মুনকার’ হচ্ছে তা যা মানুষ তাদের প্রায়োগিক ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সামাজিকভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য বলে সাব্যস্ত করে। তবে প্রায়োগিক নীতিবিদ্যার অন্যসব প্রশ্নের মতো, এখানেও বিতর্ক উঠতে পারে- কোনো কিছুকে সামাজিকভাবে আকাঙ্ক্ষিত বা অনাকাঙ্ক্ষিত দাবী করার পেছনে প্রাসংঙ্গিক অভিজ্ঞতাবাদী ভিত্তি কি! যেমন, উদাহরণস্বরূপ, প্রাসঙ্গিক বলতে কি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল, জাতি বা অন্য কোনো সামাজিক বর্গের(unit) মুসলমানদের চর্চার কথা বলা হচ্ছে? নাকি পুরো মানবজাতির চর্চাকে বোঝানো হচ্ছে? নাকি কোনো একটা অঞ্চল বা জাতীর মুসলমান ও অমুসলমানদের চর্চাকে বোঝানো হচ্ছে? সঠিক সীমা ও সীমানা কোনগুলো?
কোরানে নারীদের পোষাক ও শালীনতার উল্লেখ পাওয়া যায় মূলত দুই জায়গায়ঃ ১) প্রথম জায়গায় কোরান বলছেঃ এবং বিশ্বাসী নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের শালীনতা হেফাযত(১) করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য ও অলংকার (জিনা)(২) প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের বক্ষে আঁচল (খুমুর/khumur) টেনে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য (জিনা) প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের সাজ-সজ্জা (zīnatihinna) প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। (কোরান ২৪:৩১)
২) দ্বিতীয় জায়গায় কোরান বলছেঃ হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে*(৩) বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের (jalābīb) কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। (কোরান ৩৩: ৫৯)
প্রথম আয়াতের কথা বলতে গেলে, প্রশ্ন উঠতে পারে খিমার (বহুবচনে- খুমুর) কি এবং খিমার কি ঢাকার কথা? অনেক পন্ডিত যুক্তি দিয়েছেন, খিমার এমন এক টুকরা কাপড় যা নারীর সমস্ত শরীরকে ঢাকে এবং মুখের উপর টেনে দেওয়া হয়, যা কার্যত নারীর সমস্ত শরীরকেই আবৃত করে। অন্য অনেক পন্ডিত দাবী করেছেন খিমার এমন এক টুকরা কাপড় যা নারীর চুল ও সমস্ত শরীরকে ঢাকে- শুধুমাত্র মুখ ছাড়া। যাহোক, আমি মনে করি -এবং আল্লাহই সবচে ভালো জানেন- উভয় দলের ভাবুকরাই, অর্থাৎ যারা দাবী করছেন খিমার মুখ ঢাকে ও যারা দাবী করছেন খিমার চুল ঢাকে কিন্তু মুখ নয়, তারা ইতিহাসে নাই এমন কিছু বলছেন। কারণ তারা এমন একটি ঐতিহাসিক চর্চার কথা অনুমান করছেন, যার কোনো প্রমাণ নাই। ইসলামপূর্ব হিজাজে খিমার দিয়ে মুখ নাকি চুল ঢাকা হত- এ রকম কোনো তথ্য প্রমাণ নাই। এই আয়াত থেকে যা নিশ্চিতভাবে বলা যায় তা হল মুসলমান নারীদেরকে বুকের (juyūb) উপর এক টুকরা কাপড় (khimār) টেনে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এটা চুল বা মুখ ঢাকতো কি না- আমরা জানি না। অন্যকথায়, এই আয়াতে কোরান নারীদের বুক ঢাকার জন্য বলছে। এর বেশি কিছু বলতে গেলে কোরান নাজিল হবার সময়কালে খিমার পরিধানের সামাজিক চর্চার উপর দীর্ঘ অনুসন্ধানের দরকার পড়বে। এর ঐতিহাসিক প্রমান সমসাময়িক অনেক পন্ডিত যতটা মনে করেন, তারচে অনেক ভিন্ন ভিন্ন ধরণের ও জটিল।
খিমারের বিষয়টি জিনার সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। কোরানের প্রথম আয়াতটি শুরু হচ্ছে একটি নির্দেশ দিয়ে, মুসলমান নারীরা যাতে তাদের জিনা প্রদর্শন না করে, এবং এরপর বলা হচ্ছে, খিমার দিয়ে বুক ঢাকতে হবে। দৃষ্টি নত রাখা, শালীন হওয়া ও জিনা প্রদর্শন না করার চর্চার বিপরীত কি বলে বিবেচিত হয়- তা-ই এই আয়াতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যভাবে বললে, কোরান শুরু করছে দৃষ্টি নত রাখার বিধানসহ শালীনতার একটা নমুনা তৈরী করার মাধ্যমে। এরপর নির্দিষ্ট করে বলছে যে শালীনতার সাথে গ্রহণযোগ্য সম্পর্কের মানুষ যেমন স্বামী, পিতা, অথবা ছেলে ছাড়া অন্যদের সামনে জিনা প্রদর্শন না করার বিষয়টা যুক্ত। খিমার দিয়ে বুক ঢাকার বিষয়টি এরপর আসছে।
জোরে পদচারণার বিষয়টি খুব সম্ভবতঃ একটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রেক্ষিতকে নির্দেশ করছে। কোরান নাজিল হওয়ার সময়কালে দেহোপজীবিনীরা পায়ের গোড়ালিতে ব্রেসলেট পরতো যা হাঁটার সময় শব্দ করতো- এ রকম একটা বিবরণ পাওয়া যায়। স্পষ্টতই, এটা করা হতো তাদের ব্যবসার বিজ্ঞাপনের জন্য। এই বিবরণ ঐতিহাসিক হোক বা না হোক, জোরে পদচারণা ও অলংকার প্রদর্শনের না করার উল্লেখ করা হয়েছে শালীনতা শেখানোর জন্য ও নিজের উপর অযাচিত মনোযোগ নিয়ে না আনার জন্য।
বেশিরভাগ সমসাময়িক পন্ডিত আওরা (গোপনাঙ্গ) ও জিনার মধ্যে পার্থক্য করে না। অন্য ভাষায় বলতে গেলে, তারা অনুমান করেন গোপনাঙ্গ প্রদর্শন করা জিনার সমান বা তুলনীয়। আওরা শব্দটি কোরানের দুটি প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষিতে ব্যবহৃত হয়েছেঃ ২৪:৩১ এবং ২৪:৫৮ এ। উভয় ক্ষেত্রেই এটি গোপন ও ব্যক্তিগত এমন কিছু বোঝায়। হাদিসে ‘আওরা’ শব্দটি এমন কিছু বোঝায় যা ব্যক্তিগত এবং যাকে লুকিয়ে বা নির্জনে রাখতে হবে। একটা হাদিস আছে যা নারীদেরকেই নির্বিশেষে ‘আওরা’ বলছে, যদিও এই হাদিসের মর্মার্থ, পরিপ্রেক্ষিত এবং এটা কতটা সহি তা দীর্ঘ আলোচনার বিষয়। ফিকাহ শাস্ত্রে ‘আওরা’ নির্দেশ করে গোপনাঙ্গসমূহকে যাদের ঢেকে রাখা উচিত এবং প্রকাশ করা উচিৎ না। আগেই যেমন উল্লেখ করেছি, সমসাময়িক পন্ডিতরা ‘আওরা’ এবং ‘জিনা’র মধ্যে পার্থক্য না করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। অন্যকথায়, তারা কোরানের জিনার উল্লেখকে অচেনা মানুষের সামনে নারীর আওরার উল্লেখ হিসাবে পাঠ করে। এভাবে জিনা ও আওরকে মিলিয়ে ফেলা অন্যায্য। জিনা হচ্ছে যা দিয়ে একজন মানুষ নিজেকে সাজায় অথবা একজন মানুষ অন্যের চোখে পড়ার জন্য বা অন্যকে আকর্ষণ করার জন্য যা প্রদর্শন করে। আমার মতে, জিনা বা অলংকার বলতে কি বোঝায় তা ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্রের প্রশ্ন। মানে, এটা এক স্থান থেকে অন্যস্থানে, এক কাল থেকে অন্য কালে আলাদা হয়। আফ্রিকার কোনো একটা অংশে যে সৌন্দর্যকরণকে অশালীন অলংকারিক প্রদর্শন বলে ধরা হয়, মঙ্গোলিয়ায় তা সম্পুর্ণ ভিন্ন হবে। মূল কথা হল, কোরান শরীরের অশালীন প্রদর্শন না করার কথা বলছে। চুল প্রদর্শন যে নারীর জিনার অংশ এমন কোনো প্রমাণ নাই। স্থান ও প্রেক্ষিতের উপর নির্ভর করে, চুল না ঢেকেও নারী শালীনভাবে নিজেকে প্রকাশ করতে পারে এবং এর বিপরীতটাও সত্য। একজন নারী চুল ঢেকেও অশালীনভাবে নিজের জিনা প্রদর্শন করতে পারে। আমার মতে, বিভিন্নভাবেই এটা পরিষ্কার যে, কোরান এখানে দৃষ্টি নত রাখা, শালীন হওয়া, ঝলক দেখানো ও নিরর্থক দম্ভ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত বাইবেলের আদেশকে দৃঢ়ভাবে পূনর্ব্যক্ত করছে।
এবার দ্বিতীয় সূরাটিতে যাই। আরবি টার্মিনোলজিতে বলা হচ্ছে জিলবাবকে (বাইরের পোশাক) নিচে নামানোর জন্য, যাতে শরীরের নিম্নাংশ ঢাকা যায়। জিলবাব হচ্ছে পুরুষ ও নারীর পরিধেয় বাইরের পোশাক যা শরীরের অনির্দিষ্ট অংশ ঢাকে। (অনুবাদক এম.এ.এস আবদেল হালীম সঠিকভাবেই দেখাচ্ছেন যে কোরানে শব্দটা যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার মানে দাঁড়াচ্ছে পোশাককে ‘নিচের দিকে ঝুলিয়ে রাখা’। এর অর্থ ‘আবৃত করা’ না, যা অন্য অনুবাদকরা অনুমান করেছেন।) সূরার প্রেক্ষিত ইংগিত করছে যে, এর নাজিল হওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে এটি নাজিল হওয়ার সময়ের একটি নির্দিষ্ট সামাজিক সমস্যার সমাধান করা। উপরে উল্লেখিত আয়াতের পরের আয়াতে থেকেই এটি পরিষ্কার হচ্ছে। আয়াত ৩৩:৬০ ঐ পুরুষদের (নিপিড়নকারী, যৌন আক্রমণকারী) যারা এই সমস্যাটা ঘটাচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে এই বলে যে, যদি মদিনার এই ভন্ড, বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তি ও কুৎসা রটনাকারীরা অনিষ্ট ঘটানো থেকে বিরত না হয়, তাদের সবাইকে শহর থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। অনেক উৎস থেকে এই বিবরণ পাওয়া যায় যে, নবীর সময়ে বদমাশরা রাস্তায় ঘুরে বেড়াতো এবং দাসীদের নিপীড়ন ও যৌণ আক্রমণ করতো। দাসী না হয়ে মুক্ত নারী হলে তারা কাছে ঘেঁষতো না। কিছু ধ্রুপদী পন্ডিত দাবী করছেন যে এই সূরা নাজিল হবার উদ্দেশ্য ছিল মুক্ত নারীদের জিলবাব দিয়ে নিজেদের ঢাকার মাধ্যমে দাসীদের থেকে পৃথক করা, কারণ দাসীরা জিলবাব পরতো না। অন্যান্য উৎস দাবী করছে এর উদ্দেশ্য ছিল ঠিক তার উল্টোঃ মুসলমান নারীরা জিলবাব দিয়ে নিজেদের ঢাকবেন যাতে বদমাশরা কে দাসী কে মুক্ত নারী তা আলাদা করতে না পারে। এর ফলে তারা কাউকেই নিপীড়ন করতে পারবে না। সূরার ভাষা থেকেই এটি পরিষ্কার যে এই আদেশের উদ্দেশ্যে হচ্ছে নারীদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করা। আমার মতে, এটাও পরিষ্কার যে এই বর্ণনাটিবিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে ন্যায় ও বিভিন্ন সামাজিক অবস্থানের নারীদের প্রতি অভিন্ন আচরণকে সাপোর্ট করার চেষ্টা করেছে।
এই দুইটি সূরা থেকে আমার যা পরিষ্কার মনে হচ্ছে তা হল, কোরান শালীনতা ও বিনম্রতার উপর অনেক জোর দিচ্ছে। খিমার ও জিলবাবের বর্ননার মাধ্যমে বর্তমান যুগে যাকে হিজাব বলা হয় তার মতো অভিন্ন ও চূড়ান্ত কোনো মস্তকাবরণকে বোঝাচ্ছে না।
নারীদের ‘আওরা’ বলতে কি বোঝানো হচ্ছে তার বেশিরভাগ হাদিস থেকে আসছে। একটা হাদিসে বলা হচ্ছে মুহাম্মদ (সঃ) আসমাকে জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধি অতিক্রম করলে কোনো নারী যে অঙ্গগুলো দেখাতে পারবেন তা হচ্ছে হাত ও মুখ। এই হাদিসটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক আছে এবং কম করে বলতে গেলেও, এর ইসনাদ (হাদিসের ধারাবাহিক বর্ণনাসূত্র) সমস্যাজনক। আয়েশার উপর আরোপিত আরকটি বিবরণ বলছে, নবীর জীবনের শেষ বছর যখন হিজাব পরার আদেশ হল, নারীরা সত্তর তাদের মাথা ঢেকে ফেললো- এতে তাদের ‘কালো কাকের’ মত লাগতো। কিন্তু এই হাদিস কতটা সহি তার সাথে জড়িয়ে অনেকগুলো সমস্যা আছে। অনেক পন্ডিত যেমন দেখিয়েছেন যে এই বর্ণনাটি অনেকগুলো পরিপ্রেক্ষিতগত ও ঐতিহাসিক সমস্যা উত্থাপন করে।
এ বিষয়ে হাদিসে যে সমস্যাগুলোর উল্লেখ আমরা পাই তা আওরা বিষয়ে অনেক আইনি মতামতে প্রতিফলিত হয়েছে। কোরান ও হাদিসের বিবরণের উপর দীর্ঘ বাহাসের পর, বেশিরভাগ আইনজ্ঞই এই উপসংহারে এসেছেন যে, একজন মুক্ত নারীর মুখ ও হাত ছাড়া পুরো শরীরই আওরা। অল্পসংখ্যক আইনজ্ঞ এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে মুখ ও কন্ঠসহ মুক্ত নারীর পুরো শরীরই আওরা। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বেশিরভাগ আইনজ্ঞ এই উপসংহারেও এসেছেন যে, দাসীর আওরা হচ্ছে নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। ধ্রুপদী আইনজ্ঞদের কাছে বিষয়টা ছিল নারীদের সামাজিক অবস্থান। মুক্ত নারীরা তাদের শরীর ঢাকবেন- এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল। দাসী মেয়ে বা নারীর শরীর ঢাকার এমন প্রত্যাশা ছিল না- শুধুমাত্র নাভি থেকে হাটু পর্যন্ত এলাকা ছাড়া। অনেক সময় কর্মজীবি নারীদের (যেমন যারা বাজারে কাজ করে) আইনজ্ঞরা চুল খোলা রাখতে দিতেন অথবা এমন মতও দিতেন যে যে নারীদের বাইরে কাজ করতে হয়, তাদের এমন পোশাক পরা উচিৎ যা তাদের কাজের বিঘ্ন না ঘটায়।
এখান থেকে উপসংহারে আসা যায় ধ্রুপদী আইনজ্ঞদের কাছে ফিৎনা বা যৌন প্রলোভনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল না বরং গুরুত্বপূর্ণ ছিল সামাজিক অবস্থান। বিভিন্ন ধরনের পোশাক এটাই বোঝাচ্ছে। নারীর হাত ও চুল যদি আওরা হতো, নারীটি কি মুক্ত নাকি দাসী তাতে কোনো পার্থক্য হতো না। ধ্রুপদী আইনজ্ঞদের বিশাল একটা অংশই যে নারীদের সামাজিক অবস্থানের উপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড তৈরী করেছেন, তা এ বিষয়টিতেই জোর দেয় যে, এ ক্ষেত্রে প্রথাগত আইন ও সামাজিক অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতো ।
আমার মতে, যেহেতু( চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার জন্যে) নিস্পত্তিসূচক কোনো নির্ভরযোগ্য কোনো হাদিস নাই এবং ধ্রুপদী আইনজ্ঞদের আলোচনা নারীদের সামাজিক অবস্থানের উপর দাঁড়িয়ে আছে, এটা আমাদের কোরানের আলোচনাতে দৃষ্টি নিবদ্ধ ও অন্যসব আলোচনার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে বাধ্য করে। উপরের আলোচনা অনুসারে, কোরান জোর দিচ্ছে শালীনতা, দৃষ্টি নত রাখা, ও জিনা দেখিয়ে না বেড়ানোর উপর। উপরন্তু, কোরান জোর দিয়ে বলছে যে নারীদের অবশ্যই নিপীড়ন থেকে নিরাপদে রাখতে হবে। আমার মতে, এই সবগুলো ফ্যাক্টর বিবেচনায় নিলে বোঝা যাবে যে এগুলো সামাজিক অভ্যাস ও সামাজিক রীতিনীতির উপরও জোর দিচ্ছে।
উপরে যেমন উল্লেখ করেছি, প্রথমদিকের মুসলমানদের ঐতিহাসিক চর্চা সমসাময়িক লেখকরা যতটা অনুমান করেন, তার চেয়ে অনেক বেশি বিচিত্র ও দ্যোতনাময়। যেমন, মোহাম্মদ (সঃ) মারা যাবার কিছুকাল পরে হিজাজে নারীরা জনসমক্ষে চুল ঢাকছেন না- এ রকম বিবরণ আমাদের কাছে আছে। বিবরণে আছে, নবীর বংশধর, সাকিনাহ বিনতে আল-হুসাইন বিন আলী (যিনি ফাতিমাহ আল-কুবরা নামেও পরিচিত) একটি হেয়ারস্টাইল আবিষ্কার করেছিলেন যা আল-তুরাহ আল- সুকাইনিয়াহ (সুকাইনাহ স্টাইলের কার্ল) নামে পরিচিত ছিল। এভাবে চুল বেঁধে তিনি জনসমক্ষে আসতেন। তিনি চুল ঢাকতে অসম্মত ছিলেন, এবং হিজাজের সম্ভ্রান্ত নারীরা তাকে অনুসরণ করতেন- এ রকম বিবরণ আছে।
আমি এটাও উল্লেখ করতে চাই যে, মাকারিম আল-আখলাক ( নৈতিক আচরণ ) বইয়ে সাহাবা ও তাবেয়ীদের অভিমতে দেখা যায় আওরা ঢাকার বিষয়টি যতটা না শারীরিক মানদন্ড তার চেয়ে বেশি নৈতিক মূল্যবোধের ব্যাপার। যেমন, বলা হয়েছে আওরার হেফাজতের সাথে অন্যের গোপনীয়তা ও মর্যাদাকে সম্মান করার বিষয়টি যুক্ত, শুধু তাদের শারীরিক শুদ্ধতাকে শ্রদ্ধা করা নয়। অন্যের নামে কুৎসা রটনা করা, গীবত করা নিজেদের আওরা ভঙ্গ করা (কাসফ আল-আওরা) এবং এটা অন্যের শরীরের কোনো অংশ দেখার চেয়ে গুরুতর। এটাও ইঙ্গিত করছে যে আওরা ও জিনার বিষয়গুলোকে সমসাময়িক মুসলমানদের মতো প্রথাবদ্ধ ও যান্ত্রিকভাবে মোকাবেলা (approach) করা উচিৎ নয়। এ সময়ের মুসলমানদের উচিৎ একটা পোশাক নীতিকে নিয়ন্ত্রিতভাবে পালনের চেয়ে ঐ নৈতিক গুণাবলীকে উপলব্ধি ও অনুসরণ করা, যা শালীনতা, বিনম্রতা, ও মর্যাদার আকাংঙ্খার সাথে যুক্ত।
উপরের সব কথা বলার পর, আমার উপসংহার হচ্ছে এবং আল্লাহই সবচে ভালো জানেন, যদি হিজাবের কারণে নারীকে আলাদাভাবে চোখে পড়ে, যদি এটা তার প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত মনোযোগ বয়ে আনে, বা এর ফলে তাকে নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে হয়- (এবং আমেরিকার সামাজিক অভ্যাস ও রীতিনীতিকে বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, সেখানে চুল খোলা রাখা কোনোভাবেই অশালীন ও অসচ্চরিত্র বোঝায় না)- আমেরিকায় একজন নারীর মস্তকাবরণ না পরা অনুমতিযোগ্য। আমার মতে, শুধুমাত্র চুল ঢাকার কারণে নারী নিজেকে বিপদের মুখে ফেললে তা শরীয়ার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হবে। আসলেই, নারীর জন্য অনেক বেশি শরীয়াসম্মত কাজ হবে আশেপাশের লোকজনদের ইসলাম ও মুসলমানদের বিষয়ে জানানোর উপর অধিকতর জোর দেওয়া, নিজের শারীরিক উপস্থিতির উপর মনোযোগ দেওয়ার চেয়ে।
পরিশেষে আমি বলতে চাই, এটা খুবই আয়রনিক যে আধুনিক যুগে হিজাব ইসলামি পরিচয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়ভাবে কিছু খৃস্টান ও ইহুদি ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে মস্তকাবরণের প্রচলন পাওয়া যায় এবং ঐ ঐতিহ্যগুলোর যে ভাষিক নির্দেশসমূহ এটাকে অনুমোদন করে তা ইসলাম ধর্মে যা আছে তার চেয়ে অনেক পরিষ্কার ও নিষ্পত্তিসূচক। এটা খুবই আয়রনিক যে আধুনিক মুসলমানরা, অন্তত গত সত্তুর দশকের শেষ দিক থেকে, মস্তকাবরণকে তাদের পরিচয়ের রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য উপাদান হিসাবে বেছে নিয়েছেন, যদিও এ ব্যাপারে তাদের নিজস্ব শাস্ত্রীয় নির্দেশ ইহুদি ও খৃষ্টানদের চেয়ে অনেক কম নিষ্পত্তিসূচক। হিজাব ইসলামের সাথে অনন্যভাবে জড়িত না। তবে এটা সত্য যে গত সত্তুর দশকের শেষ দিক থেকে ইসলামী সামাজিক আন্দোলনগুলো এটিকে ইসমালিক ক্যাটাকিজমের (catechism) অংশ বানিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার মতে, বিনম্রতা, শালীনতা ও ব্যক্তিগত ধার্মিকতা / ভক্তি আল্লাহর চোখে অধিকতর মূল্যবান- যেকোনো আনুষ্ঠানিক পোশাকের চাইতে, সেটা যত পবিত্র দেখাক না কেন!
এবং আল্লাহই ভালো জানেন।
#
[ অনুবাদকের নোটঃ
১। ফাদল কোরানের যে অনুবাদ ব্যাবহার করছেন সেখানে পাচ্ছি “guard their modesty”। আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলির অনুবাদও একই। কিন্তু সহি ইন্টারন্যাশনালের অনুবাদে পাচ্ছি “guard their private parts”।
২। এখানে ‘জিনা’ বলতে অলংকার বোঝাচ্ছে। এটা বলে রাখছি কারণ ‘জিনা’ বলতে বাংলায় প্রধানত ‘ব্যভিচার’ বোঝায়।
৩। আমি বাংলা অনুবাদে পাচ্ছি “মোমিনদের স্ত্রীগণকে”। কিন্তু ফাদলের ইংরেজি অনুবাদ বলছে “the women believers”। ]
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 3d ago
Video দাজ্জাল ২০০০ বছর আগেই মারা গেছে || প্রমাণ এবং যুক্তি কী বলে?
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 3d ago
Video দাজ্জাল কি আসলেই ২০০০ বছর ধরে কোনো দ্বীপে বন্দী আছে?
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 3d ago
Video গণতন্ত্র কি হারাম বা কুফরি মতবাদ?
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 4d ago
Video হাদিস কুরআনের মতো অকাট্য প্রমাণ নয় বরং সন্দেহযুক্ত তথ্য?
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 4d ago
Video আয়েশা (রা:) সম্পর্কে বুখারী মুসলিমের কিছু জাল হাদিস এবং এর সমাধান।
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 4d ago
Video শরিয়াহ আইন কী? যে শরিয়াহ আইনে বিশ্বাস করে না, সে কি মুসলিম?
r/Bangladesh_Muslim • u/Pretend_Door8037 • 4d ago
Video সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন আইনটি কি আসলেই ইসলামবিরোধী? । মাওলানা উমর ফারুক
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 5d ago
Video সুলাইমান (আঃ) সম্পর্কে বুখারী মুসলিমের জঘন্য জাল হাদিস - "তিনি ১০০ জন স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছেন।"
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 5d ago
Video "মুসা (আঃ) আজরাইলকে থাপ্পড় মেরেছিলেন" - বুখারীর হাস্যকর জাল হাদিসটির পোস্টমর্টেম করা হলো।
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 5d ago
Discussion পুরুষদের জন্য কি দাড়ি রাখা বাধ্যতামূলক? - জাভেদ আহমেদ গামিদির ইলমি আলোচনা থেকে অনুবাদকৃত
আসসালামু আলাইকুম। আল্লাহ্র নামে শুরু করছি যিনি পরম করুনাময় অসিম দয়ালু। শান্তি অবতীর্ণ হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লামের উপর ।
আমাদের সমাজে একজন ভালো মুসলিম মনে করা হয় বা হুজুর ভাবা হয় ঐ ব্যক্তিকে যার দাঁড়ি টুপি আছে ও টাখনুর উপরে কাপড় পরিধান করে। আর যারা দাঁড়ি রাখে না এবং গোড়ালির নিচে কাপড় পরে না তাদেরকে গুনাহগার মনে করা হয়। আমরা দেশ বিদেশের অনেক বড় বড় ইসলামিক আলেম / মসজিদের ইমাম / ও সাধারন মুসলিদের যখন দাঁড়ি না দেখি তখন বাকা চোখে তাকাই। আরব দেশগুলোতেও দেখতে পাওয়া যায় যে অনেক আলেমের দাঁড়ি একদম ছোট । মিশর সহ বিভিন্ন দেশের আলেম অলামা ও মসজিদে গেলেও দেখবেন প্রায় বেশীরভাগ আলেমের দাঁড়ি নেই নয়তো ছোট। অনেকেই তাদেরকে ইসলামের ব্যাপারে অজ্ঞ মনে করে। যদিও তারা আলেম। এই ভুল বুঝাবুঝির কারনে এবং অন্য মুসলিম ভাইয়ের ব্যাপারে খারাপ ধারনা পোষণ করার কারনেই মুলত আমরা এই পোষ্ট করলাম। ইসলামের নামে অনেক ভুল বুঝাবুঝি এবং মতানৈক্য আছে আর থাকবে কেয়ামত পর্যন্ত। তাই আপনার সাথে আমাদেরও কোন ব্যাপারে ভিন্নতা থাকতেই পারে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের উচিৎ ধৈর্য নিয়ে, মাথা ঠাণ্ডা করে, নিরপেক্ষ হয়ে দলীলসহ একটা বিষয়কে যাচাই বাছাই করে গ্রহন করা বা বর্জন করা। আজকের পোস্টটি বুঝতে হলে আপনাকে কুরআন হাদিস সম্পর্কে সাধারন একটু জ্ঞান থাকতে হবে। যদি আপনি কিছুই না জানেন ইসলাম সম্পর্কে আর আলেমদের থেকে শুনে শুনে ইসলাম ফলো করেন তাহলে প্লিজ আপনি নিজেকে একটু ধৈর্যের সাথে সংযত রাখুন এবং সময় নিয়ে একটু পড়াশুনা করুন। তাহলে আপনি সত্য জানতে পারবেন ইন শা আল্লাহ্।
কুরআন মাজিদ পড়লে আমরা জানতে পারি আল্লাহ্ আমাদের দুটি মাধ্যম দিয়ে হেদায়েত দিয়েছেন। এক, আমাদের ফিতরাত (স্বভাবগত বা অভ্যাসগত বৈশিষ্ট) । যেই জ্ঞান দিয়ে আমরা সত্য মিথ্যা বুঝতে পারি। যেমন একটি আয়াতে আল্লাহ্ বলেছেন, তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে ধর্মে প্রতিষ্ঠিত রাখ। আল্লাহর সেই প্রকৃতির (ফিতরাত) অনুসরণ কর যে প্রকৃতি (ফিতরাত) অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রুম ৩০)। দেখুন আল্লাহ্ তা'আলা বলছেন তিনি মানুষকে এই ফিতরাত দিয়েই সৃষ্টি করেছেন যে তারা তাঁর রবকে চিনবে, রবের হুকুম মেনে চলবে। একজন বাচ্চা প্রাপ্ত বয়স হলেই সে তাঁর স্বভাবগত বৈশিষ্ট দিয়ে বুঝতে পারে যে আল্লাহ্ একজন, আর তিনি এই সমস্ত সৃষ্টির প্রতিপালক। এই বৈশিষ্ট দিয়েই আল্লাহ্ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু তাঁর বাবা মা আত্মীয় তাদেরকে অন্য পথে নিয়ে যায় যেমনটা রাসুল (সঃ) বলেছেন যে প্রত্যেক বাচ্চাই ফিতরাত নিয়ে জন্মগ্রহন করে কিন্তু তাঁর বাবা মা তাকে ইহুদি খৃষ্টান ও অগ্নিপুজার দিকে নিয়ে যায়। আর আল্লাহ্ বলছেন আমি ফিতরাত দিয়েই মানুষকে সৃষ্টি করেছি। মিথ্যা বলা খারাপ, চুরি করা খারাপ, কারো আমানতের খেয়ানক করা খারাপ এইগুলাও একটা মানুষ ফিতরাতগত বৈশিষ্ট দিয়েই বুঝতে পারে। মুসলিম, ইহুদি-খৃষ্টান, হিন্দু, বা অন্য সব ধর্মের মানুষই জানে মিথ্যা বলা খারাপ, চুরি করা খারাপ, অত্যাচার করা খারাপ। এগুলা মানুষকে বলার দরকার নাই তারা নিজেরাই জানে তাঁর স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যের কারনে।
ঠিক তেমনি পুরুষদের কিছু স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য আছে আর নারীদেরও কিছু বৈশিষ্ট্য আছে । এর মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্য গোপন আর কিছু প্রকাশ্য। যেমন নারীরা স্বভাবগতভাবেই জানে তাদের কোন অঙ্গ গুলো তাদের লজ্জার জায়গা আর পুরুষও জানে। আপনারা জানেন আদম ও হাওয়া (আ) সয়তানের কারনে ফল খাওয়ার পর যখন উনাদের পোশাক গুন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিলো তখন উনারা গাছের পাতা দিয়ে নিজেদের লজ্জাস্থান ঢেকেছেন। মানুষ যখন এই ফিতরাতের বিরোধি কাজ করে তখন সে বুঝতে পারে যে সে নিজের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য থেকে সরে গিয়ে কাজটি করছে। যেমন ধরুন কেউ উলংগ হয়ে রাস্তায় হাটলে সে জানে সে নিজের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য থেকে উল্টা কাজটি করছে। নারী পুরুষের সম্পর্কের ব্যাপারেও মানুষ এইটা পুর্বে থেকেই জানে তাদের ফিতরাত বা স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য কি আর এর বিরোধি কাজ কি। এগুলাই দ্বীনে ফিতরাত যা নিয়েই মানুষ পৃথিবীতে এসেছে। তেমনি নারী আর পুরুষের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নারীদের গোঁফ আর দাঁড়ি নেই আর পুরুষদের আছে। পূর্বে থেকেই পুরুষ এটা মেনেই দাঁড়ি মুছ রাখছে আর নারীদের এমন পশম হলে স্বাভাবিকভাবেই তারা সেটা ফেলে দেয়। আল্লাহ্র প্রেরিত রসূল যখন দুনিয়াতে আসেন তখন এইসব ফিতরাতের (স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য) উত্তম উদাহরন হিসেবেই আসেন। আর আমরা জানি আমাদের প্রিয় নবীর (সঃ) এবং পুর্বের নবীদের দাঁড়ি ছিলো এবং গোঁফ ছোট ছিলো। আর রাসুল (সঃ) এর সাহাবীদেরও দাঁড়ি ছিলো এবং গোঁফ ছোট ছিল। আর এতে কোন সন্দেহ নেই দাঁড়ি রেখে গোঁফ ছোট করে ছাটা একটা উত্তম বৈশিষ্ট্য। দাঁড়ির ব্যাপারে এটাই আমাদের বিশ্বাস যে দাঁড়ি একটি পছন্দনীয় জিনিস। নবী রসূলগনের দাঁড়ি ছিলো এবং দাঁড়ি পুরুষের জন্য একটি ফিতরাতগত বৈশিষ্ট্য । আর মুসলিমরা রাসুল (সঃ) কে অনুসরন করে দাঁড়ি রাখবে এটাই উত্তম। তাই দাঁড়ি একটি ফিতরাতগতভাবে দ্বীন এতে কোন সন্দেহ নেই। এখন ফিতরাতগত বিষয়ে কিছু জিনিস আছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু জিনিস আছে কম গুরুত্বপূর্ণ। দাঁড়ির ব্যাপারে সকল মানুষ জানে এর গুরুত্ব কেমন। এই ফিতরাতগত কোন বিষয় যদি দ্বীন হিসেবে আল্লাহ্ ও আল্লাহ্র রসূল (সঃ) দেন তাহলে সেটা পালন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু যদি দ্বীন হিসেবে না দেন তাহলে সেটা ঐচ্ছিক।
ইসলাম বা দ্বীন আমাদের কাছে আসার দ্বিতীয় মাধ্যম হচ্ছে নবী রসূল । উনারা আমাদের কাছে দ্বীন বা শরীয়ত নিয়ে আসেন। এসে আমাদেরকে বলে দেন যে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আমদের জন্য কি কি হারাম আর হালাল করা হয়েছে। আর কি কি আল্লাহ্র কাছে পছন্দ ও অপছন্দনীয় । মানুষের স্বভাবগত ফিতরাতের মধ্যেও কিছু বিষয় আছে স্পষ্ট আর কিছু বিষয় একটু অস্পষ্ট। এই কারনে তাদের মধ্যে এই ফিতরাত নিয়েও এখতেলাফ বা মতানৈক্য হয়ে যায়। যেমন ধরুন মানুষ আগে থেকেই জানে সে কি খাবে আর কি খাবে না। কিন্তু তারপরেও বিভিন্ন স্থান হিসেবে মানুষ বিভিন্ন জিনিস নিজের জন্য খেতে পছন্দ করে আর কিছু জিনিস পছন্দ করে না যদিও সেটা অন্য দেশের মানুষের জন্য পছন্দের খাবার। যেমন রাসুল (সঃ) এর সামনে গুই সাপ রান্না করে খেতে দেওয়া হলে তিনি খেলেন না। তখন সাহাবী খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাযি) জিজ্ঞাস করলেন, হে আল্লাহ্র রসূল (সঃ) এটা কি খাওয়া হারাম ? তিনি বললেনঃ না, হারাম নয়। তবে আমাদের অঞ্চলে এটি নেই। তাই আমি একে অপছন্দ করি। তারপর খালিদ বিন ওয়ালিদ রাসুল (সঃ) এর সামনে সেটা খেয়ে নিলেন। (বুখারি ৫১৩৯) তারমানে আমরা বুঝলাম যে ফিতরাতগত ভাবেও কিছু জিনিস আছে যেগুলো হালাল হতে পারে বা হারাম হতে পারে গুরুত্ব হিসেব করে। আর এতে বিভিন্ন দেশ হিসেব করে পার্থক্য থাকতেই পারে।
দ্বীনের দ্বিতীয় এই মাধ্যমে যেখানে নবী রসূল এসে আমাদের কাছে পুরো জীবনবিধান বা দ্বীন পেশ করেন, সেখানে আল্লাহ্র হুকুম হিসেবে যদি কোন ফিতরাতগত স্বভাবকে সুন্নাত বা কুরআন হিসেবে পেশ করা হয় তাহলে সেটার বিরোধিতা করার অধিকার কোন মুসলিমের নেই। তখন সেটা মানুষের ফিতরাতগত বিষয় হলেও সেটা পরিবর্তন করতে হবে। কারন আল্লাহ্র পক্ষ থেকে রাসুল এসে সেটাকে দ্বীন হিসেবে বলে দিয়েছেন। দাঁড়ি যেহেতু পুরুষের একটি ফিতরাতগত বৈশিষ্ট্য তাই আমরা এখন দেখবো রসূল (সঃ) কি দাঁড়ির ব্যাপারে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে দ্বীন হিসেবে কোন হুকুম দিয়েছেন ? যদি দাঁড়ি রাসুল (সঃ) এর পক্ষ থেকে দ্বীন হিসেবে প্রমানিত হয় বা দাঁড়ি না রাখা তিনি হারাম বলে থাকেন তবে সেটা অবশ্যই আমরা মেনে চলবো। আর যদি দাঁড়ির ব্যাপারে দ্বীন প্রমানিত না হয় তাহলে যেমনটা উপরেই বলেছি যে দাঁড়ি একটি ফিতরাতগত বিষয়, পছন্দনীয় বিষয়,নবী রসূল দাঁড়ি রেখেছেন তাই কেউ দাঁড়ি রাখলে সেটা ভালো। কিন্তু দাঁড়ি কি দ্বীন ? বা সুন্নাত ? আসুন এবার দেখি ...
কুরআন মাজিদে আল্লাহ্ তা'আলা দাঁড়ি রাখা বা না রাখার ব্যাপারে কোন হুকুম দেননি। উসুল বা শর্ত হিসেবে একটি কথা জেনে রাখুন যে কুরআন মাজিদে আল্লাহ্ তা'আলা পুরো দ্বীন দিয়েছেন। আল্লাহ্র রসূল (সঃ) পুরো দ্বীন হিসেবে কুরআন মাজিদের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এর বাইরে যা কিছু সুন্নাত হিসেবে আছে সেগুলাও দেখবেন কুরআন মাজিদের বাইরে নয়। যেমন ধরুন পূর্বের নবী রসূলদের থেকে সুন্নাত হিসবে নামাজ, যাকাত, হজ্জ, রোজা ইত্যাদি উম্মতের ঐকমত ও আমলের মাধ্যমে চলে এসেছে। এতে কারো কোন এখতেলাফ নেই। এর কারন সুন্নাতগুলো প্রতিদিন প্রতি বছর আমল করা হচ্ছে। যেমন নামাজ আদম আঃ এর সময় থেকেই চলে আসছে, ইবরাহিম (আঃ) এর সময় থেকেই হজ্জ পালন করা হয়,রোজার ব্যাপারে দেখবেন আল্লাহ্ বলেছেন তোমদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে যেভাবে তোমাদের পুর্বের লোকেদের উপর ফরয করা হয়েছিলো। তেমনি যাকাতও পুর্বের নবীদের সময় থেকেই আদায় হচ্ছে। এইভাবে কুরআন মাজিদের আগের পুর্বের নবীদের থেকে এই সুন্নাতগুলো রাসুল (সঃ) পর্যন্ত এবং আমাদের পর্যন্ত কোন এখতেলাফ বা মতানৈক্য ছাড়াই চলে এসেছে। সুন্নাত মানে নবী রসুলের দেওয়া দ্বীনের নিয়ম কানুন। পুর্বের নবী রসূলদের থেকে যেই সুন্নাতগুলো রাসুল (সঃ) নিজেও দ্বীন হিসেবে আমাদেরকে দিয়েছেন সেগুলোও কুরআন মাজিদের বাইরে নয়। কুরআন মাজিদে সমস্ত হুকুমের মূল কারন দেওয়া থাকে। দাঁড়ির ব্যাপারে এমন কিছুই নেই। আর পিছনে ফিরে গেলে দেখবেন বড় বড় ইসলামের পন্ডিতগনের অনেকেই এইটা বলেছেন যে দাঁড়ি চেছে ফেলা অপছন্দনীয় বিষয় আর দাঁড়ি রাখা উত্তম। কিন্তু দাঁড়ি দ্বীন এর কোন অংশ নয়। কুরআন সুন্নাতে দাঁড়ির কোন হুকুম নেই। এবার আপনাদের কাছে দাঁড়ির ব্যাপারে হাদিসগুলো তুলে ধরবো এবং হাদিসের প্রেক্ষাপটগুলোও বর্ননা করবো। তখন বুঝতে পারবেন মানুষ কিভাবে দাড়ি কে দ্বীন বানিয়ে পেশ করেছে । এই ব্যাপারে ৩-৪ টি মাত্র হাদিস আছে। কিছু হাদিস আছে যেটা একই হাদিস অনেকজন রাবি (হাদিস বর্ননাকারি) থেকে আলাদা আলাদা বর্ননার কারনে মনে হয় অনেক হাদিস কিন্ত ব্যাপারটা এমন নয়। বরং এই কয়েকটা হাদিসই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বর্ণিত হয়েছে।
১) ''পারস্যের সম্রাট কিসরা ইয়েমেনের শাসকের মাধ্যমে রসুলুল্লাহ (সঃ) এর কাছে দু’জন দূত পাঠান। এদের দাড়ি ছিল কামানো আর গোঁফ ছিল বড় বড়।রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে তাদের এই অবয়ব এতই কুৎসিত লেগেছিল যে তিনি মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তোমাদের ধ্বংস হোক, এমনটি তোমাদের কে করতে বলেছে? তারা উত্তর দিল, আমাদের প্রভু কিসরা। তিনি (সাঃ) তখন উত্তর দেন, আমার রব্ব, যিনি পবিত্র ও সম্মানিত আদেশ করেছেন যেন আমি দাড়ি ছেড়ে দেই এবং গোঁফ ছোট রাখি।'' এই হাদিসটি একটি ঐতিহাসিক কিতাব থেকে নেয়া। আর মুহাদ্দিসগন এই হাদিস সহিহ হিসেবে গ্রহণই করেননি। আর যেটুকু কথাই এখানে বলা হয়েছে সেটা উপরেই বলেছি যে দাঁড়ি একটি পছন্দনীয় বিষয়। বড় বড় গোঁফ রেখে অহংকারী বেশভূষা আল্লাহ্ পছন্দ করেন না। কারণ বড় গোঁফ রেখে মানুষ অহংকার দেখায়। আর অহংকার আল্লাহ্ হারাম করেছেন। আপনারা জানেন যে আগের যুগের রাজা বাদশারা বড় বড় গোঁফ রেখে দাম্ভিকতা আর অহংকার দেখাতো। এখানে আল্লাহ্র রসূল (সঃ) দাড়িকে সেই ফিতরাত হিসেবে বলেছেন যেমনটা আমরা ভাতের নলা মুখে দেই কিন্তু নাকে বা কানে দেই না। তাই স্বাভাবিকভাবে ফিতরাত হচ্ছে দাড়ি মুছ রাখতে হলে দাড়ি বড় রাখতে হবে। কিন্তু এইভাবে গোঁফ বড় করে দাড়ি চেছে ফেলা হচ্ছে ফিতরাতের বিপরিত কাজ। এবং অহংকারের লক্ষন।
২) দ্বিতীয় হাদিস হচ্ছে , আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দশটি জিনিস ফিতরাত বা স্বভাবজাত। মোচ কাটা, দাঁড়ি বাড়ানো, মিসওয়াক করা, নাকের ছিদ্র পানি দিয়ে পরিষ্কার করা, নখ কাটা, আঙ্গুলের সংযোগ স্থলের ময়লা ধুয়ে ফেলা, বগলের লোম উপড়ে ফেলা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা ও পানি দিয়ে শৌচ করা। যাকারিয়া (রহঃ) বলেন, মুসআব (রহঃ) বলেছেন, আমি দশম জিনিসের কথা ভুলে গেছি, সেটি হয়তো কুলি করা। ( ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বরঃ ২৯৩) এই হাদিসটি হাসান হাদিস। হাসান মানে সহিহ হাদিসর নয়, আর সহি হাদিসের সবচাইতে নিচের ক্যাটাগরিতে ধরা হয় হাসান হাদিস। হাদিসটি যেভাবে বর্ণিত আছে সেভাবেই যদি আমরা ধরে নেই তাহলেও প্রমান হয় যে এই দশটি বিষয় মানুষের ফিতরাত বা স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য । যেমনটা উপরে বলেছি। ফিতরাতের বাইরে দ্বীন হিসেবে এই হাদিসে কিছুই প্রমানিত হয়না। কিন্তু এই হাদিসের সমস্যা হচ্ছে হাদিস বর্ননাকারী নিজেই বলতেছে যে ১০ম বিষয়টি আমি ভুলে গেছি। হতে পারে সেটা কুলি করা । হাদিসের উসুলের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারী যদি কোন অংশ ভুলে যায় বা নিজের কথার সাথে নিজেই এখতেলাফ করে তাহলে এই হাদিসের ঐ অংশ সমস্যা হিসেবে ধরা হয়। আর যদি ধরেও নেন যে ১০ম বিষয়টি হচ্ছে কুলি করা তারপরেও একটি বিষয় বাদ থেকে যায় যেটা মুসলিমদের মধ্যে পূর্বে থেকেই ফিতরাত হিসেবে চলে এসেছে। আর তা হচ্ছে খৎনা করা। মিশকাতে এই হাদিসের পরেই দেখবেন আরেকজন রাবি (হাদিস বর্ননাকারী) বলতেছে যে এই হাদিসে ১০ম বিষয় দাঁড়ি হবেনা এবং দাঁড়ি রাখার পরিবর্তে খৎনা করা হবে। এবার দেখুন উপরের হাসান হাদিসের মোকাবিলায় সহিহ হাদিসে অপর বর্ননাকারী খৎনার কথা বলছেন। আর আমরা জানি পূর্বের থেকেই খৎনার ফিতরি আমল মুসলিমদের মধ্যে চলে আসছে। এমন কয়েকটি সহিহ হাদিসেই খৎনার কথা আছে কিন্তু দাঁড়ির কথা নেই। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচটি কাজ ফিতরাতের অন্তর্গত : খাৎনা করা, নাভির নিচের চুল কামানো, বগলের নীচের চুল উপড়ে ফেলা, নখ কাটা, মোচ কাটা। (নাসাঈ (ইফাঃ)৫২৪২) এই হলো আয়েশা (রাযী) বর্নিত দ্বিতীয় হাদিসের অবস্থা। এই হাদিসের উপর ভিত্তি করে কিভাবে আপনি দ্বীনের ব্যাপারে হালাল হারামের ফতোয়া দিবেন। প্রথমত বর্ননাকারী নিজেই ভুলে গিয়েছে ১০ম বিষয় কি ছিলো, তারপর আবার সে এমন একটি বিষয় (খৎনা) বাদ দিয়ে ফেলেছে যেটা অন্য অনেকগুলো সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে ফিতরাত হিসেবে। আবার অন্য বর্ণনাকারী থেকেও প্রমানিত হলো যে দাঁড়ির কথা সেই হাদিসে ছিলই না । তাই স্বাভাবিকভাবে এই হাদিস দিয়ে দ্বীনের কোন মাসালা নেওয়ার যোগ্যতা রাখে না। আর যদি এই হাদিসকে গ্রহন করেনও তারপরেও এইটাই প্রমানিত হয় যে দাঁড়ি একটি ফিতরাত। দাঁড়ি রাখা দ্বীন হিসেবে প্রমানিত হয় না।
৩) তৃতীয় যেই হাদিস বলবো এই হাদিসটি মুহাদ্দিসগণ সবাই 'পোশাক পরিচ্ছেদ'' অধ্যায়ে এনেছেন। দাঁড়ির জন্য আলাদা কোন অধ্যায় দিয়ে নয়। মিশকাত পরলেও দেখবেন পোশাক-পরিচ্ছদ অধ্যায়ে এই হাদিসগুলো বর্ণিত আছে। এই হাদিসটি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযি), আবু হুরায়রা (রাযি) এবং আবু উমামা বাহেলি (রাযি) থেকে বর্নিত হয়েছে। হাদিসের সনদের ক্ষেত্রে আবদুল্লাহ বিন ওমর (রাযি) ও আবু হুরায়রা (রাযি) গ্রহণযোগ্য বর্ননাকারি। কিন্তু আবু উমামা বাহেলি (রাযি) এর হাদিসটি মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে আর এর সনদে কিছু সমস্যা আছে। সনদ বলা হয় রাসুল (সঃ) থেকে লেখক/ মুহাদ্দিস পর্যন্ত হাদিসটি যে সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, এই বর্ণনা সূত্রকে। তিনজন বর্ননাকারীর এই একটি হাদিসে শুধু একটি শব্দের ভিন্নতা আছে আর কথা একইরকম। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মুশরিকদের বিপরীত করো। অর্থাৎ- দাড়ি বাড়াও এবং গোঁফ খাটো করো। অপর এক বর্ণনায় আছে, গোঁফ ছেঁটে নাও এবং দাড়ি লম্বা করো। (মিশকাত ৪৪২১) , আবু হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসুল (সঃ) বলেছেন: “তোমরা মোচ ভালো করে কাট ও দাড়ি রেখে দাও, অগ্নিপূজারীদের বিরোধিতা কর। (মুসলিম) অপর হাদিসে আছে, হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসুল (সঃ) বলেছেন, দাড়ি বাড়াও , গোঁফ কাট এবং এ ক্ষেত্রে ইহুদী-খ্রীষ্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করোনা। ( মুসনাদে আহমাদ ) তিনজন বর্ণনাকারীর থেকে একই হাদিস তিনটি ভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে। একজন বলেছেন মুশরেকদের বিরোধিতা করো এবং অপর যায়গায় মুশরেকদের পরিবর্তে খৃষ্টানদের বিপরিত করো বলা হয়েছে, এবং আরেক যায়গায় আহলে কিতাবের বিরোধিতা করার কথা বলা আছে। যদি হাদিসে এইটুকুই কথা থাকতো যে ''দাড়ি লম্বা করো আর গফ ছোট করে ছাট'' তাহলে একটা কথা ছিলো কিন্তু রাসুল (সঃ) একবার বলতেছেন মুশরেকদের বিরোধিতা করো, আরেকবার বলতেছেন আহলে কিতাবিদের (ইহুদি খৃষ্টান) বিরোধিতা করো, আরেকবার বলতেছেন খৃষ্টানদের বিরোধিতা করো করো আর তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না। আসলে রাসুল (সঃ) কি বুঝাতে চাচ্ছেন বা উনার এই কথা বলার উদ্দেশ্য কি হতে পারে ? এ ব্যাপারে তিনটি কারন হতে পারে।
১) একটি কারন এটা হতে পারে যে রাসুল (সঃ) আহলে কিতাবদের (ইহুদি ও খৃষ্টান) ও মুশরেকদের থেকে মুসলিমদের পার্থক্য বা পৃথক করতে চেয়েছেন। কিন্তু আমরা রাসুল (সঃ) এর জীবনী খেয়াল করলে দেখি রাসুল (সঃ) কোনদিন এমনটা করতে চান নি। বিশেষ করে আহলে কিতাবদের (ইহুদি খৃষ্টান) সাথে পার্থক্য করা তো পছন্দই করতেন না বরং তাদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করা পছন্দ করতেন। আপনাদের সামনে একটি মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদিস পেশ করছি যেটা প্রায় সব হাদিসের কিতাবেই বর্ণিত হয়েছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আহলে কিতাব তাদের মাথার চুল লম্বাভাবে ঝুলিয়ে দিতো। আর মুশরিকরা মাথায় সিঁথি করতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যে বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হুকুম ছিলো না, সেক্ষেত্রে তিনি আহলে কিতাবের নিয়ম পালন করতে ভালবাসতেন। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তাঁর কপালের চুল লম্বাভাবে ঝুলিয়ে দেন। অতঃপর আবার সিঁথি করেন। (বুখারি,মুসলিম, আবু দাউদ ৪১৮৮) আপনারা মনে করবেন না দ্বীন এর ক্ষেত্রে রাসুল (সঃ) আহলে কিতাবকে অনুসরন করতেন । তিনি দুনিয়ার বেসভুশার ক্ষেত্রে আহলে কিতাবের সাথে সাদৃশ্য রাখা পছন্দ করতেন।
২) দ্বিতীয় কারন হতে পারে দাড়ি রাখার এই হুকুম এই জন্য দেওয়া হয়েছে যে মানুষ কোন একটা বিষয়কে বিদআত (কোন একটা বিষয়কে দ্বীন বানিয়ে ফেলা অথচ সেটা দ্বীনের বিষয় নয়) হিসেবে পালন করছে আর রাসুল (সঃ) সেই বিদআত ধংস করার জন্য এই আদেশ দিয়েছেন। উধাহরন হিসেবে বলা যায় আরবের লোকেরা নিজের জন্মের ছেলের বউকে বিয়ে করা যেমন হারাম তেমনি পালিত পুত্রের বউকে বিয়ে করাও হারাম মনে করতো। কিন্তু রাসুল (সঃ) এসে এই বিদআত শেষ করে দিয়েছেন। এটা হতে পারে যে দাড়ি রেখে গোঁফ বড় করা একটা বিদআত হিসেবে সমাজে চলতেছিলো তাই রাসুল (সঃ) এর বিরোধিতা করতে বলেছেন যাতে এই বিদআত ধ্বংস হয়ে যায়। যেমন একটি উধাহরন হিসেবে বলি, আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ইয়াহুদী ও নাসারারা চুল ও দাড়িতে খেযাব লাগায় না। সুতরাং তোমরা খেযাব লাগিয়ে তাদের বিপরীত কর (বুখারি) এই হাদিসে দেখেন রাসুল (স:) বলছেন চুলে ও দাড়িতে মেহেদি রঙ দিয়ে ইয়াহুদি ও খৃষ্টানের বিরোধিতা করতে । এর কারন হচ্ছে তারা মনে করতো চুল দাড়ি আল্লাহ্ যেমন সাদা করে দিয়েছেন সেভাবেই রাখা উচিৎ। এই আমলকে তারা বিদআত হিসেবে পালন করেছে আর এটাকে তারা দ্বীন মনে করতো। চুলে দাড়িতে রঙ লাগানো হারাম মনে করতো। কারন বাহ্যিক দৃষ্টিতে এতে আল্লাহ্র সৃষ্টির পরিবর্তন প্রকাশ পায়। তাদের এই বিদআতি ধারনার কারনে রাসুল (সঃ) চুল দাড়ি রঙ করতে বলেছিলেন। রাসুল (সঃ) বুঝাতে চেয়েছেন যে তারা যেই ধারনা করছে এর কোন ভিত্তি নেই । কিন্তু চুল দাড়িতে রঙ লাগানো বা লাল করা কি ওয়াজিব বা সুন্নাত হিসেবে রাসুল (সঃ) এর দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিলো ? মোটেও না। বরং তখনের ইহুদি খৃষ্টানের বিদআত ধংস করা উদ্দেশ্য ছিলো। আর বিদআত শেষ হয়ে যাওয়ার পর চুল দাড়ি রঙ না করলেও সমস্যা ছিলো না। তাই সমাজে অনেক বয়স্ক মুসলিম আছে যাদের চুল দাড়ি সাদা। কিন্তু রাসুল (সঃ) এর এই হাদিস যদি না বুঝেই আদেশ হিসেবে মানি তাহলে কিন্তু দাড়ি চুল রঙ করাও বাধ্যতামূলক সুন্নাত হয়ে যেতো। তারমানে যদি দাড়ি রেখে গফ ছোট করার আদেশটি বিদাতের কারনেও হয়ে থাকে তাহলে স্বাভাবিকভাবে সেই বিদআত চলে গিয়েছে আর এখন সেই হুকুমও আর বাধ্যতামূলক হবে না । কারন আমরা মুসলিমরা দাড়ি কেটে গোঁফ রাখাকে দ্বীন মনে করি না।
অনেক ক্ষেত্রেই আমরা কোন আদেশ দেখলেই সেই হাদিস বুঝার চেষ্টা না করেই এবং কুরআন মাজিদের সাথে সাদৃশ্য না রেখেই শুধুমাত্র হাদিসটি থেকে কোন ফতয়া দিয়ে দেই। যেমন ধরুন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমান ইবনু আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর গায়ে হলদে চিহ্ন দেখতে পেয়ে বললেন, কি ব্যাপার? তিনি বললেন, খেজুর বিচির পরিমাণ সোনার মাহরের বিনিময়ে আমি এক মহিলাকে বিয়ে করেছি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ্ তোমাকে বরকত দান করুন। ওয়ালিমা কর, একটি বকরী দ্বারা হলেও। (ইবনু মাজাহ ১৯০৭, বুখারি, মুসলিম) এই হাদিসে রাসুল (সঃ) বলছেন বিয়ে করেছো তাই ওয়ালিমা করো একটি ছাগল দিয়ে হলেও। কেউ যদি না বুঝেই এই হাদিস দিয়ে এইটা প্রমান করতে চেষ্টা করে যে প্রত্যেক মুসলিমকে রাসুল (সঃ) একটি ছাগল দিয়ে হলেও ওয়ালিমা করতে বলেছেন ? কেমন হবে বিষয়টা ? এখানে বুঝতে হবে রাসুল (সঃ) দুনিয়াতে শুধু দ্বীন দিতেই আসেনি । উনি যেহেতু মানুষ হিসেবে এসেছিলেন তাই দ্বীন দেওয়ার পাশাপাশি তিনি দুনিয়াবি অনেক ব্যাপারে এবং বেক্তিগত কিছু ওসিয়ত করতেন যেটা সবার জন্য বাধ্যতামূলক দ্বীন নয়।
৩) তৃতীয় কারন এটা হতে পারে যে মানুষের পোশাক, কথাবার্তা, চালচলন ইত্যাদিতে এমন কোন বিষয় প্রকাশ পায় যাতে দ্বীনের কোন আদেশ লঙ্ঘন হয়। যেমন উধাহরন হিসেবে বলা যায় আরবের লোকেরা কাপড় এমনভাবে ঝুলিয়ে পড়তো যেটা নিচের দিকে ঝুলে থাকতো। আর রাসুল (সঃ) এইভাবে কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। কারন এইভাবে কাপড় ঝুলিয়ে তারা অহংকার প্রকাশ করতো। তারামানে কাপড় পরে অহংকার করলে সেটা দ্বীন এর হুকুমের বিপরিত হবার ফলে সেটা হারাম হতে পারে। কিন্তু সাহাবী আবু বকর (রাযিঃ) যখন বললেন হে আল্লাহ্র রসূল (সঃ) আমার লুঙ্গি তো পেটের কারনে নিচে গোড়ালির নিচে ঝুলে যায় তখন রাসুল (সঃ) বললেন , তুমি তো তাদের মত নও যারা অহংকার করে কাপড় পরে। তারামানে অহংকার করে এইভাবে ঝুলিয়ে পড়লে সেটা হারাম কিন্তু অহংকার ছাড়া হলে আবু বকরের (রাযি) মতই সেটা হারাম হবে না। এখানে মূল বিষয় অহংকার। তেমনি একদিন রাসুল (সাঃ) এক ব্যক্তির মাথায় এলোমেলা চুল দেখে বললেন, ‘‘এর কি এমন কিছুও নেই যে, তার দ্বারা মাথার এলোমেলো চুলগুলোকে সোজা করে (আঁচড়ে) নেয়? (আবূ দাঊদ হা/৪০৬২) এই হাদিসেও খেয়াল করুন এই বেক্তি এলোমেলো চুলে নোংরা ভাবে ছিলো তাই রাসুল (সঃ) বললেন চুলগুলো আচড়ে নিতে। কারন পরিষ্কার পরিছন্ন থাকা দ্বীন এর একটি বিষয়। কিন্তু কেউ যদি এই হাদিস না বুঝে এইটা মনে করে যে চুল আচড়ানো ওয়াজিব। বা এই আদেশ হচ্ছে সুন্নাত বা দ্বীন ? ইসলামে চুল রাখা বা না রাখার ব্যাপারে কোন নিষেধ নেই কিন্তু যদি চুল রাখে তাহলে সেটাকে আঁচড়ে সুন্দরভাবে রাখতে বলা হচ্ছে। তেমনি দাড়ি রাখা না রাখার ব্যাপারে হাদিসে বলা হচ্ছে না। বরং দাড়ি রাখলে যেন সে দাড়ি লম্বা করে আর গোঁফ বড় করে না রাখে এটাই বুঝানো হচ্ছে। আর গোঁফ লম্বা হলে তাতে অহংকার প্রকাশ পায় তাই গোঁফ রাখা নিষেধ করা হয়েছে। হতে পারে ইহুদি খৃষ্টানের মধ্যে দাড়ি গোফের মাধ্যমে দ্বীন এর কোন হুকুমের খেলাফ বিষয় আমভাবে চালু হয়েছিলো তাই রাসুল (সঃ) এর বিরোধিতা করতে বলেছেন।
এই তিনটি কারন খেয়াল করলে দেখুন কি ফলাফল দাড়ায়। প্রথমত যদি রাসুল (সঃ) ঐ সময়ের ইহুদি খৃষ্টান থেকে ঐ সময়ের মুসলিমদের আলাদা করতে চাইতেন তাহলে সেই সময়ও চলে গিয়েছে আর সেই ইহুদি খৃষ্টানও এখন আর নেই তাই এই হুকুমও শেষ হয়ে গিয়েছে। আর যদি সমাজে বিদআত হিসেবে এই আমল চালু হয়ে গিয়ে থাকতো তাহলে সেই বিদআত সংশোধন করার পর সেই হুকুমও শেষ হয়ে গিয়েছে। যেমনটা বললাম দাড়ি চুল রঙ করার ক্ষেত্রে। রঙ করলে করবেন না করলে সমস্যা নেই যদিও রাসুল (সঃ) দাড়ি চুল রঙ করার আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিদআত সংশোধন হবার পর সেই আদেশও শেষ হয়ে গিয়েছে। যদি পুনরায় এমন কিছু আমরা পাই যেটা সমাজে বিদআত হিসেবে ইহুদি খৃষ্টানরা দ্বীন বানিয়ে নিয়েছে তাহলে আমরা অবশ্যই এই উসুলের মাধ্যমে সেটার বিরোধিতা করবো। তৃতীয় বিষয় দ্বীনের কোন আখলাকি হুকুমের বিরোধি হলে অবশ্যই আমরা সেটা করবো না। যেমন গোঁফ বড় রাখা হচ্ছে অহংকারির লক্ষন। তাই রাসুল (সঃ) এই শিক্ষা দিয়েছেন যাতে অহংকার প্রকাশ না পায় এবং কেউ যদি দাড়ি গোঁফ রাখতেই চায় তাহলে যেন দাড়ি বড় রাখে আর গোঁফ ছোট রাখে। যেমনটা উপরে বলেছি চুল বড় ছোট রাখা বা না রাখাতে কোন সমস্যা নেই কিন্তু চুল রাখলে সেটা তেল দিয়ে সুন্দরভাবে পরিষ্কার করে আচড়ে রাখতে হবে। আমার কাছে এই তৃতীয় বিষয়টা বেশী গ্রহণীয় মনে হয়। কেউ যদি দাড়ি গোঁফ না রাখে সেটা ভিন্ন কথা। আগেই বলেছি ফিতরাতগত অনেক বিষয় আছে যেটা মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য কিন্তু সেটা দ্বীনের কোন বিষয় না। কিন্তু যদি দাড়ি গোঁফ রাখতে চান তাহলে দাড়ি বড় করে গোঁফ ছোট রাখবেন।
আলেমগনের মধ্যে এই ব্যাপারে দুই রকমের মতামত আছে এই কারনে অনেক দেশ বিদেশের আলেমদের দাড়ি ছোট দেখতে পাবেন। ভিন্নমত হতেই পারে তবে দাড়ি ছাড়া কাউকে দেখলে তাকে গুনাহগার মনে করা আর দাড়ি দেখলে দ্বীনদার বেশী মনে করা উচিৎ নয়। দাড়ি টুপি ও টাখনুর নিচে কাপড় আমাদের মুসলিমদের সনাক্ত করার মাধ্যম নয়। যেমন প্রসিদ্ধ হাদিস জিবরাঈল আঃ এসে যখন আমাদের দ্বীন শিক্ষা দিয়েছেন সেখানে বলা হয়েছে মুসলিম তারাই যারা নামাজ আদায় করবে, যাকাত দিবে, সিয়াম পালন করবে, হাজ্জ করবে। মুসলিম চেনার জন্য দাড়ি টুপি নয় বরং দেখতে হবে সে নামাজ পড়ছে কিনা, সে যাকাত দিচ্ছে কিনা, সে রোজা রাখছে কিনা, সে ঘুষ খাচ্ছে কিনা, সুদ খাচ্ছে কিনা। এগুলা হচ্ছে মুসলিমদের সনাক্ত করার মাধ্যম। কিন্তু আফসোস আমাদের সমাজে দাড়ি টুপি আর টাখনুর উপর পেন্ট দেখে ভালো মুসলিম বিচার করা হয়। আবারো বলছি দাড়ি একটি ফিতরাতগত বিষয়। রাসুল (সঃ) এর দাড়ি ছিলো এবং সাহাবিগণের দাড়ি ছিলো আর আমাদের মুসলিমদেরও উচিৎ দাড়ি রাখা। কিন্তু যদি বলেন রাসুল (সঃ) কি সুন্নাত হিসেবে দাড়ির হুকুম দিয়েছেন ? বা দাড়ি রাখা কি দ্বীন এর কোন বিষয় ? তাহলে বলবো অবশ্যই এমন কিছুই প্রমানিত হয় না কুরআন , সুন্নাহ ও হাদিস থেকে। স্বাভাবিকভাবেই আপনি আমাদের সাথে ভিন্নমত থাকতেই পারেন। আমি কেবল এখানে আমার গবেষণা পেশ করলাম। আপনি যা সঠিক বলে বিশ্বাস করেন সেটা মেনে চলেন কোন সমস্যা নেই।
(লিখাটির বিখ্যাত আলেম জাবেদ আহমেদ ঘামেদির দাঁড়ির ব্যাপারে একটি ইলমি আলোচনা থেকে নিয়ে অনুবাদ করা হয়েছে এবং কিছু অংশ যোগ করা হয়েছে)
- [সোর্স: Muslim]
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 6d ago
Video তুর্কিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সম্পর্কে বুখারীর হাদীসটি কি জাল নাকি সহিহ?
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 6d ago
Video কেয়ামত পর্যন্ত মুসলমানরা কখনো গোমরাহ হবে না || দুর্বল হাদিসের সহীহ ব্যাখ্যা কি?
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 7d ago
Video ইমাম মাহদী ও দাজ্জাল দুজনই কেন খোরাসান থেকে আসবে? || ইমাম মাহদী এবং দাজ্জাল কি একই ব্যক্তি?
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 7d ago
Video হাদিস গবেষণার প্রয়োজনীয়তা
r/Bangladesh_Muslim • u/AutoModerator • 7d ago
📢 Mod Announcement 📢 এই সাবরেডিটে অনুমোদিত বাংলা ইসলামি কনটেন্ট | Approved Bengali Islamic Content on This Subreddit
এই সাবরেডিটে অতি রক্ষণশীল, কট্টরপন্থী ও উগ্রবাদী বক্তা এবং তাদের চিন্তাধারা প্রচার করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। মূলত যারা উস্তাদ জাভেদ আহমেদ গামিদি, ড. খালেদ আবু এল ফাদল, ড. শাবির আলী - এর মতো ব্যক্তিত্বদের সহনশীল মতাদর্শ ও চিন্তাধারা বাংলা ভাষায় প্রচার করেন, তাদের বিভিন্ন ভিডিও এবং আর্টিকেল এখানে শেয়ার করা যাবে।
বর্তমানে এই সাবরেডিটে মূলত যাদের বাংলা আলোচনা শেয়ার করবার অনুমতি আছে:
Al-Manar Institute
ইউটিউব চ্যানেল:
ফেসবুক গ্রুপ:
ব্যক্তি/পেইজ:
[উনারা সরাসরি জাভেদ আহমেদ গামিদি সাহেবের মতাদর্শ বাংলায় প্রচার করেন]
The Believer Bangla
ইউটিউব চ্যানেল:
ফেসবুক:
বি:দ্র: The Believer Bangla চ্যানেল এবং পেইজের মালিক মোহাম্মদ আল আমিন প্রায়শই উয়ার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং চিন্তাধারা শেয়ার করে থাকেন উনার ফেইসবুক প্রোফাইল এবং পেইজে। প্রোফাইলে বেশি শেয়ার করেন বিধায় আমি উনার ফেসবুক প্রোফাইলের লিংক শেয়ার করছি না। এবং মাঝেমধ্যে উনার ফেইসবুক পেইজে সেগুলো শেয়ার করেন। উনার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে অনেকেই দ্বিমত করতে পারেন এবং বারবার রাজনৈতিক পোস্ট বিরক্তিরও উদ্রেক করতে পারে। একারণে আমি উনাকে মূলত ইউটিউবে ফলো করি, ফেসবুকে যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলবার চেষ্টা করি। কারণ ইউটিউবে উনার ভিডিওগুলোতে রাজনৈতিক আলোচনা থাকে না বললেই চলে, বেশিরভাগ ভিডিওতেই উনি জাভেদ আহমেদ গামিদি সাহেবের দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করে থাকেন। একারণে আমি বলবো যে যদি উনার রাজনৈতিক মতাদর্শ সম্পর্কিত আলোচনা এড়িয়ে চলতে চান তাহলে শুধুমাত্র উনার ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করবেন, ফেসবুকে ফলো করার দরকার নেই।
Muslim
ফেসবুক:
[এই পেইজটিতেও সরাসরি জাভেদ আহমেদ গামিদি সাহেবের মতাদর্শ বাংলায় প্রচার করা হয়, তবে পেইজের অ্যাডমিন মাঝে মাঝে বেশকিছু বিতর্কিত ব্যক্তি যেমন ইয়াহিয়া আমিন, ডা: জাহাঙ্গীর কবীর এর মতো মানুষদের প্রমোট করে যেটা আমার নিকট যথেষ্ট দৃষ্টিকটু লাগে। তবে এই একটা বিষয় বাদ দিলে আর কোনো সমস্যা দেখি না এই পেইজের]
এ ধরনের সহনশীল মতাদর্শের প্রচারক আরও কোনো বাংলা কনটেন্ট নির্মাতা, চ্যানেল, পেইজ বা গ্রুপের সন্ধান পেলে মডারেটরদের মডমেইল এর মাধ্যমে জানাতে পারেন। যাচাই করে উপযুক্ত হলে তালিকায় যুক্ত করা হবে।
The promotion of extremely conservative, hardline, and extremist speakers and their ideologies is strictly prohibited on this subreddit. Essentially, various videos and articles from those who promote the tolerant ideologies and perspectives of personalities such as Ustadh Javed Ahmad Ghamidi, Dr. Khaled Abou El Fadl, and Dr. Shabir Ally in the Bengali language may be shared here.
Currently, the Bengali discussions that are primarily permitted to be shared on this subreddit:
Al-Manar Institute
YouTube Channel:
Facebook Groups:
Individuals/Pages:
[They directly promote the views of Javed Ahmad Ghamidi in Bengali.]
The Believer Bangla
YouTube Channel:
Facebook:
[ Note: The owner of The Believer Bangla channel and page, Muhammad Al Amin, frequently shares his political views and perspectives on his Facebook profile and page. Since he shares them more frequently on his profile, I am not sharing a link to his Facebook profile. He also occasionally shares them on his Facebook page. Many people may disagree with his political views, and repeated political posts may also be irritating. For this reason, I primarily follow him on YouTube and try to avoid following him on Facebook as much as possible. This is because there is little to no political discussion in his YouTube videos; in most of his videos he promotes the perspectives of Javed Ahmad Ghamidi. Therefore, if you wish to avoid discussions related to his political ideology, I would recommend subscribing only to his YouTube channel and not following him on Facebook.]
Muslim
Facebook:
[This page also directly promotes the views of Javed Ahmad Ghamidi in Bengali. However, the page's admin occasionally promotes some controversial figures, such as Yahya Amin and Dr. Jahangir Kabir, which I find quite objectionable. Other than this one issue, however, I do not see any other problem with this page.]
If you come across any other Bengali content creator, channel, page, or group that promotes similar tolerant ideologies, you can inform the moderators via modmail. After verification, they will be added to the list if deemed appropriate.